Home অপরাধ ওসমানীগর থানার ওসি সহিদ উল্যাসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে চাদাবাজি মামলা

ওসমানীগর থানার ওসি সহিদ উল্যাসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে চাদাবাজি মামলা

by jonoterdak24
0 comment

স্টাপ রির্পোটার: ওসমানীনগরে কথিত আসামীর সন্ধানে যুক্তরাজ্যের প্রবাসীর বাড়িতে ভাঙচুর, বাড়ির লোকজনকে মারধর ও বড় অংকের টাকা দাবি করে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সাজানো মামলা দিয়ে হয়রাণীর অভিযোগে ওসমানীনগর থানার ওসিকে প্রধান আসামী করে থানায় কর্মরত আরো ৪ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওসমানীনগর সি-আর মামলা নং-১৬০/১৮।

এই মামলায় থানার এসআই চাঁন মিয়া, এসআই ফরিদ আহমদ, কসস্টেবল ইমদাদুল হক ও তোফাজ্জল হোসেন এবং পুলিশের সহযোগী হিসেবে মোগলাবাজার থানার নোয়াগাঁও গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সায়েক মিয়া ও গোলাফ নূরের ছেলে শাহাব উদ্দিনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের খাগদিওর সাতহালিপাড়া গ্রামের মৃত রমজান উল্যার স্ত্রী গুলবাহার বিবি (৭৪) বাদি হয়ে ৭ মে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদলতে এই মামলাটি দাখিল করলে আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করেন। একই সাথে ২৭ মে মামলার ধার্য্য তারিখে মামলার স্বাক্ষীদেরকে আদালতে হাজির হয়ে স্বাক্ষ্য প্রদানের জন্য বাদিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদলতের বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে- মামলার বাদি গুলবাহার বিবি ও তার পরিবার যুক্তরাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। বাদির ছেলে মুজিবুর রহমান সে দেশের কারবি বরা কাউন্সিলের সাবেক মেয়র বর্তমান ডেপুটি মেয়র এবং ক্রাইম এন্ড ডিসরডার কমিটির মেম্বার। চলতি বছরের ৮জানুয়ারী বাদি দেশে এসে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাত ২টার দিকে ওসমানীনগর থানার একদল পুলিশ বাদির বাড়ির সীমানা দেয়াল টপকিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। বাড়িতে কথিত আসামী আত্মগোপনে থাকার অজুহাতে এসআই চাঁন মিয়া, এসআই ফরিদ আহমদ ও পুলিশের সহযোগী শাহাব উদ্দিন কুড়াল, সাবল ও বড় পাথরের আঘাতে বাদির বসত ঘরের দুই রোমের দরজা ও বাথরোমের দরজা ভেঙে বসত ঘরে প্রবেশ করেন। আসামীর সন্ধানে ঘর তল্লাশীর নামে বাদির ঘরে থাকা লোকজনকে মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় পুলিশের সহযোগী সায়েক মিয়া ঘরে থাকা এক মহিলাকে টানাহেঁছড়া করে তার পরনের কাপড় ছিড়ে শ্লীলতাহানি করেন। ভাঙচুরের শব্দ ও বাড়ির লোকজনের চিৎকারে বাড়িতে ডাকাত পড়েছে মনে করে স্থানীয় লোকজন বাদির বাড়িতে জড়ো হন। ওই দিন রাতে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্দেশ্যমূলক ছিল। থানা পুলিশের এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ওসির কাছে বিচার চাইলে তিনি রহস্যজনক ভুমিকা পালন করে উল্টো বাদির স্বজনদের কাছে ৫লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওসির দাবিকৃত সেই টাকা না পেয়ে বাদির স্বজন ও নিকটজনদের নামে ওসমানীনগর থানায় ভিত্তিহীন ও হয়রাণীমূলক দুটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি মামলার বাদি থানার এসআই চাঁন মিয়া ও অপর মামলার বাদি হিসেবে রয়েছেন পুলিশের সহযোগী সায়েক মিয়া।
মামলার বাদি গুলবাহার বিবি বলেন, ওসমানীনগর থানার ওসির নির্দেশে আসামী ধরার অজুহাতে পুলিশ গভীর রাতে আমার বাড়িতে হানা দিয়ে ভাঙচুর করে প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। পুলিশের সদস্য ও তাদের সহযোগীরা বাড়ির লোকজনকে মারধর ও মহিলাদের সাথে খারাপ আচরণও করেছে। ঘটনার দিন রাতে ওসিও আমার বাড়িতে এসে আমার স্বজনদেরকে মামলা ও জেল জুলুমের হুমকি দেন। পরবর্তীতে ওসি আমাদের কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তিনি বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হয়রাণী করে আসছেন। তার হয়রাণী থেকে রেহাই পেতে নিরুপায় হয়ে সুবিচারের আশায় আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
এবিষয়ে বাদির স্বজন ও পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় অভিযুক্ত সালেহ আহমদ বলেন-ওসির কথামত আমি থানায় গেলে ওসি আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেন এই টাকা না দিলে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। কিন্তু টাকা না দেয়ায় ঠিকই আমিসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা দিয়ে আমাদেরকে অযথা হয়রাণী করছেন।
খাগদিওর সাতহালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া ও মো: আজিজুর রহমান সুফি বলেন- আমরা লোকজন মুখে শুনেছিলাম ওসি সহিদ উল্যা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক বাস্তবে আমরা সেটার প্রমাণ পেলাম। ঘটনার দিন রাতে ওসি ঘটনাস্থলে আসলে থানা পুলিশের এমন আচরণে আমরা ওসির কাছে নালিশ করি। কিন্তু অত্যান্ত দু:খের বিষয় পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে বড় অংকের টাকা দাবি করেন এবং দাবিকৃত সেই টাকা না পেয়ে তিনি নিরিহ লোকজনকে মামলা দিয়ে অযথা হয়রাণী করে আসছেন।

 

Related Posts

Leave a Comment