Home সিলেট বিভাগ ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসক কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাঞ্চিত

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসক কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাঞ্চিত

by jonoterdak24
0 comment

পরিচালক বরাবরে অভিযোগ দায়ের

 

নিউজ ডেস্ক::সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসক কর্তৃক এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাঞ্চিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, সিলেট মহানগর’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি নূরুদ্দীন রাসেল (৩০) ডাক্তার কর্তৃক লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন। রাসেল সাহিত্য সংগঠন ‘স্বর্ণালী সাহিত্য পর্ষদ, সিলেট’ ও ‘বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, সিলেট বিভাগীয় সভাপতি’। তিনি দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানের ছেলে। এব্যাপারে লাঞ্চিত রাসেল হাসপাতালের পরিচালক বরাবরে ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।122

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০৪ ডিসেম্বর রোববার রাসেলের মা তাঁর ছোটবোন তাহমিনা বেগম’র চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের বহির্বিভাগের (নাক, কান, গলা) আবাসিক সার্জন ডাক্তার কৃষ্ণ কান্ত ভৌমিক’র কাছে যান। এসময় ডাক্তার তার ব্যবস্থাপত্রে দুইটি পরীক্ষার কথা লিখে দেন। একটি পরীক্ষার (ডিজিটাল এক্সরে) ব্যবস্থা ওই হাসপাতালের ভেতরেই রয়েছে এবং অপরটি বাহিরের অন্য কোনো মেডিকেল সেন্টারে। হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে সংগৃহীত টিকিটে মুক্তিযোদ্ধা সীল থাকার পরও ওই ডাক্তার ডিজিটাল এক্সরে পরীক্ষার জন্য ফ্রিতে কোন ব্যবস্থা করে দেন নি। বিষয়টি নিয়ে আলাপ করার জন্য পরদিন ৫ ডিসেম্বর সোমবার রোগী তাহমিনার বড় ভাই লাঞ্চিত নূরুদ্দীন রাসেল হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ডা. কৃষ্ণ কান্ত ভৌমিকের সাথে সাক্ষাত করতে চাইলে তিনি চেম্বারে উপস্থিত হন নি। তিনি হাসপাতালের পুরাতন বিল্ডিং-এর ৪র্থ তলায় ০৭ নং ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন এমন সংবাদ পেয়ে রাসেল সেখানে যান। কিন্তু সরজমিনে দেখা গেল তিনি ওই রুমে না বসে একই বিল্ডিং-এর ৪র্থ তলার ৪১৭ নং কক্ষে অধ্যাপক ডাক্তার এন.কে. সিনহা’র সাথে খোশ গল্প করছেন। সিনহা একই বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ও হেড নেক সার্জারী বিভাগ। সেখানেও তাঁর সাথে দেখা করতে বার বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন রাসেল। পরে প্রায় আধ ঘন্টার মতো অপেক্ষা করে রুমে ঢুকার অনুমতি পান। অথচ, ওই রুমে অনেক বিভিন্ন মহলের অনেক নেতাকর্মীরা দেদারছে ঢুকছেন বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, রুমে অবস্থানরত ডাক্তার কৃষ্ণ কান্ত ভৌমিক ও ডা. এন.কে সিনহা উভয়কে সম্মান জানিয়ে তিনি গতকালের বিষয়টি নিয়ে আলাপ করার অনুমতি চান। পরে ডা. ভৌমিক অনুমতি দিলে তিনি বিনয়ের সাথে বলেন ‘গতকাল আপনার সাথে সাক্ষাতের সময় আমার মা মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র আপনাকে প্রদর্শন করেন, অথচ হাসপাতালের ইনডোরে ফ্রিতে ডিজিটাল এক্সরে করা থেকে আমাদের বঞ্চিত করলেন। দেখুন, দয়াকরে আমাকে এই সুবিধাটা প্রদান করুন মর্মে বার বার বিনয়ের সাথে আকুতি জানান’। কিন্তু তার কথায় হুঙ্কার দিয়ে ডা. ভৌমিক বলেন ‘আপনি আমাকে চার্জ করছেন? আপনার টাকার সমস্যা আছে কি? আর টাকা না থাকলে এখানে আসছেন কেন’? পরক্ষণেই ডা. সিনহাও ডা. ভৌমিকের সাথে তাল মিলিয়ে অভিযোগের বাদি রাসেল’র সাথে রূঢ় আচরন করে বলেন ‘এখানে স্বয়ং মুক্তিযোদ্ধারা ফ্রিতে কোনরূপ সুযোগ সুবিধা পায় না সেখানে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এই সুবিধা পাওয়ার প্রশ্নই আসে না’। এছাড়া ওই মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে ইন্টার্নি ডাক্তারের সামনেই অকথ্য ভাষায় গালগাল করেন এমনটি অভিযোগে উল্লেখ আছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে ওমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুস সবুর মিঞা জানান, অভিযোগকারীর সাথে যেটা হয়েছে সেটা কাম্য নয়। অভিযোগ যাচাই পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের গর্ব, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। তারা অবশ্যই এখানে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, সেই সাথে তাদের সন্তানরাও। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধ পরিকর রয়েছেন। মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার জন্য আমি নিজেও বিব্রতবোধ করি। অবশ্যই অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys