Home অপরাধ কানাইঘাটের আলোচিত কয়েকটি হত্যাকান্ড !

কানাইঘাটের আলোচিত কয়েকটি হত্যাকান্ড !

by Chief Editor
0 comment 480 views

 

আব্দুল হালিম সাগর : হাফিজ ইফজাল আহমদ বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার কাপ্তানপুর গ্রামে। গত ২৫/৫/২০২০ ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপশহর বি ব্লকের ১৮নং রোডের ৩ নম্বর বাসার পাশ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে শাহপরাণ থানার পুলিশ। তার মুত্যুটি রহস্যজনক যদিও তার চাচাতো ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যর শেষ নেই, পুলিশ আসল ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এ গিয়ে যাচ্ছে। সন্ধেহের তীর তার আপন বোন ও তার দেবরসহ পরিচিত কয়েক জনের উপরে। অনেকে বলছে বোনের পরকিয়ার বলি ভাই ইফজাল। যদিও তার পরিবার মৃত্যুর বিষয়টির রহস্য উদ্ঘাটনে ধামাচাপা দেওয়ার মতো অচরণ করছে বলে প্রতিমান হচ্ছে। একটি প্রশ্ন দিয়ে রাখছি, হত্যার ঘটনায় ইফজালের মাকে কেন বাদী করা হলোনা, মৃত্যু ঘটনার পর কেন তার বোন তার দেবররা বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন?
একই ভাবে ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়াস্থ ৩৪নং বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় মুকিগঞ্জ বাজারের পাশ্ববর্তী ফালজুর উত্তর ফজনগ্রামে আরব আমিরাত প্রবাসী বিলাল আহমদের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা নাজুয়া (১৬)কে, মেয়েটি ছিলো বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। ধারণা করা হচ্ছিলো সৎ মা চেমন আরা এর অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে ফেলায়ই নাজুয়াকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। চেমন আরার সাথে যেসব পুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল তার মধ্যে তার কানাইঘাট থানার লামা ঝিঙ্গাবাড়ী গ্রামের মতিউর ছিলো অন্যতম, যদি মতিউর এখন দুবাই প্রবাসী। যদিও চেমন আরা জানিয়ে ছিলো, ঘটনার দিন তিনি দেখতে পান তার সৎ মেয়ে বাক প্রতিবন্ধি নাজুয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করছে। এরপর তিনি নাজুয়ার গলায় পেচাঁনো উড়না কেঠে থাকে মাটিতে নামিয়ে আনেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তৎপর থাকলেও নাজুয়ার পিতাসহ কিছু স্বজনের আচরণ ছিলো রহস্য জনক, আর দাদীসহ চাচারা ছিলো সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনের পক্ষে অনড়, শেষ পর্যন্ত টাকার কাছে হার মানে নাজুয়া হত্যা রহস্য।
২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সিলেটের কানাইঘাটে নিখোঁজের ৬দিন পর ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের কটালপুর হাওর থেকে জামাল আহমদ উরফে জামাল বাবুর্চির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের তিনচটি গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে। হত্যাকারিরা জামালের মুখমন্ডলসহ সারা শরীরে এসিড মেরে ঝলসে দিয়েছিলো এবং আঘাতে আঘাতে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করে ঘাতকরা। ১৪ ফেব্রæয়ারী নিখোঁজ হন জামাল। নিখোঁজের পর তার স্বজন ও গ্রামের লোকজন কানাইঘাট থানা পুলিশকে অবগত করেন বিষয়টি। এর দু’দিন পর পর্যন্ত জামালের সন্ধান না পেয়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। অবশেষে লাশ পাওয়া গেল জামালের।
এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় ওই দিনই তাঁর স্ত্রী শাহিনুর বেগম হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় পুলিশ প্রথমেই সন্দেহভাজন আবদুর রহিম ও কবির মিয়া নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। মামলায় আসামি করা হয়েছিলো ১৮ জনকে। অপহরণ করে নিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার পর এসিড দিয়ে লাশ ঝলসে দেওয়া হয়েছিলো জামালের। ঐ সময় জামালের চাচা মাইনুল ইসলাম মনু ও ভাতিজা জাবেদ ইকবাল জানিয়ে ছিলেন, মিয়াগুল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে হারিছ, নুর আহমদের ছেলে মইন ও কটিল এই তিনজনে মুখিগঞ্জ বাজার থেকে জামালকে গানের আসরের কথা বলে সিএনজিতে করে নিয়ে যায়। তারা তাকে নিরিবিলি একটি হাওড়ে নিয়ে হত্যা করে। জামালের ফুফাতো ভাই আলিমুদ্দিনের সঙ্গে হারিসদের দ্ব›দ্ব ছিল। এই আলীমুদ্দিনকে ঘায়েল করতেই হারিছ তার লোকদের নিয়ে জামালকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সেই সময়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্য হুমায়ুন আহমেদও বিষযটি নিয়ে আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর ছিলেন। ফলে কয়েকজন কারাভোগও করে জামিনে ছাড়া পান।
বিগত ২০১৮ সালের ১লা অক্টোবর কানাইঘাট উপজেলার ফাগুগ্রামের মৃত ইজ্জত উল্লাহর ছেলে আব্দুন নুরকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়।
থানা পুলিশ মামলা নিতে কালক্ষেপন করায় নিহতের বোন বাদী হয়ে সিলেটে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ‘জমি সংক্রান্ত, ইজমালী জমি নিলামের টাকা নিয়ে বিরোধ থেকেই আব্দুন নুরকে ঘর থেকে ডেকে নেয় ফাগু গ্রামের হাজী কলিম উল্লাহর ছেলে আম্বিয়া পর দিন একই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার বাড়ির আঙ্গিনায় লাশ ফেলে যায় ঘাতকরা। মামলায় আসামী করা হয় ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন, ফাগু গ্রামের হাজী কলিম উল্লাহর ছেলে আম্বিয়া, কুদরত উল্লাহর ছেলে আব্দুশ শুকুর, মৃত বতাই মিয়ার ছেলে আমির উদ্দিন, মৃত শহর উল্লাহর ছেলে আশফাক আহমদ, মৃত কালা মিয়ার ছেলে আজিজুর রহমান ওরফে আজিমকে। কিন্ত আদালতে মামলা দায়ের আগেই পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে ফলে হত্যাকারীদের বাঁচাতে সুবিধার সুষ্টি হয়। তবে অনেক কাঠগড় পুড়িয়ে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে বলে নিহতের স্বজনরা জানান।
২০১৯ সালের ১২ মে কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউপির নিজ গাছবাড়ীতে জেসমিন আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তিনি নিজ গাছবাড়ী নয়াগ্রামের আজির উদ্দিনের পুত্র সিএনজি অটোরিকশা চালক ইসলাম উদ্দিনের ২য় স্ত্রী। জেসমিন একই উপজেলার নিজ দলইকান্দি আকুনি গ্রামের তুতা মিয়ার মেয়ে। নিহত জেসমিনের স্বজনদের দাবী হত্যা আর স্বামীর বাড়ির লেঅকজনের দাবী ছিলো আত্মহত্যা। বসত ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জেসমিন আক্তার এমন দাবী স্বামীর পরিবারের। কানাইঘাট থানার উপ-পরিদর্শক স্বপন চন্দ্র সরকার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছিলেন।
২০১৮ সালের ২১ জুলাই ২১ কানাইঘাটে পাওনা ২৫০ টাকার দায়ে আলমগীর হোসেন (১৯) নামের এক যুবক খুন হন। তিনি দিঘীরপাড় ইউপির পূর্ব রামপুর গ্রামের সাজিদ আলীর পুত্র। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানা পুলিশ দুজনকে আটক করেছিলো। ২১ জুলাই শুক্রবার বিকাল ৫টায় স্থানীয় সড়কের বাজারস্থ মাহবুব টেলিকম এন্ড সার্ভিসিং সেন্টারের জয়ফৌদ কাজিরগ্রামের ফারুক আহমদের ছেলে মাহবুবুর রহমান মাত্র ২৫০ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য ওই যুবককে আটক করে তার দোকানে নিয়ে যায়। এরপর মাহবুব ও তার সহযোগী ঠাকুরেরমাটি গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র সিএনজি চালক কবির আহমদ সহ কয়েকজন মিলে আলমগীর হোসেনকে দোকানের সাটার বন্ধ করে বেধড়ক মারপিট করে মুখে বিষ দেয় এবং পরে আলমগীরকে সিএনজি করে তার বাড়ীর পাশে রাস্তায় ফেলে আসে। দিন রাত ২টার দিকে সে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়। কিন্তু উপরের ‍দুটি রহস্যঘেরা মৃুত্যুর স্বীকার নাজুয়া ও ইফজালে বাড়ি একই গ্রামে, যদিও নাজুয়ার পরিবার এখন বসবাস করেন ফজনগ্রামে। এ ভাবে কানাইঘাটে একের পর এক হত্যা ও মৃত্যুর ঘটনায় বিস্মিত করে তুলছে সচেতন মহলকে, এসব ঘটনার পর আসল ঘটনাগুলো আড়াল হয়ে পড়ে রহস্যজনক কারণে ফলে একের পর এক হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এসব উল্লেখিত ঘটনার কোনটিরই এখন পর্যন্ত বিচারকার্য সমাপ্ত হয়নি, এর আগেই কোনটি লালফিতায় বন্ধি হয়ে গেছে, আবার কোনটি পরিচালনার অভাবে মামলা পড়ে গেছে। কোন কোন মামলা মামলায় পুলিশী গাফলতিকে দায়ি করছেন বিজ্ঞমহল

Related Posts

Leave a Comment