Home অপরাধ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম

by jonoterdak24
0 comment

 

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১,৭০,০৭৭ জন। পুরো উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবার জন্য রয়েছে ১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ২টি পরিবার কল্যান কেন্দ্র ও ১৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বেশির ভাগ মানুষ কমিনিটি ক্লিনিকমূখি হলেও উপজেলা সদরের আশে-পাশের মানুষ আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে।

সেবা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করে জানান- টাকা দিলেই মিলে সেবা, আর না দিতে পারলে বলা হয় সিলেট চলে যেতে। এ ছাড়াও ঠিক মত ডাক্তাররা থাকেন না হাসপাতালে। আর মাঝে মধ্যে থাকলেও ঠিকমত মিলেনা সরকারি ফ্রি ঔষধ। সেখানেও টাকা ছাড়া মিলেনা ঔষধ।

রোগীরা আরো জানান, জরুরী সেবাতে বেশির ভাগ সময় ডাক্তারের কাজ ওয়ার্ড বয় দিয়ে চালানো হয়। আর ওয়ার্ড বয় ডাক্তারদের থেকে টাকা দিয়ে নিতে হয় খারাপ ব্যাবহার ও সেবা। আর এতে করে চরম দূর্ভোগে আছে অজপাড়া গায়েঁর এসব সাধারণ মানুষ।

১৯৯৭ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে চালু হয় কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নকে ভেঙ্গে ৬টি ইউনিয়নে রূপান্তরিত করা হয়। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে এখনও ৬টি ইউনিয়ন হিসেবে সেবা চালু হয়নি। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বারবার চিঠি দিয়েও এখন পর্যন্ত কোন ফল মেলেনি। বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্হিবিভাগে ২/১ জন ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, প্যাথলজিতে লোক থাকলেও সব সময় পাওয়া যায়না আর এক্সরে মেশিন থাকলেও লোকবল না থাকায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে ।

এদিকে, নিয়মিত সেবা প্রদান করার জন্য ওর্য়াড গুলোতে নার্স থাকার কথা থাকলেও বেশির ভাগ সময় মিলছেনা তাদের। রাতের বেলা আয়া দিয়ে চালানো হয় নার্সের কাজ। নার্সদের ডেকেও পাওয়া যায়না রাতে। জরুরী সেবাতে ওয়ার্ড বয় ও ডাক্তারদের মিলেনা প্রযোজনে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জরুরী সেবাতে এসে ওয়ার্ড বয় ও ডাক্তারদের না পেয়ে তাদের খোঁজে হাসপাতালের খেলার মাঠে গেলে বয়রা জানান, খেলা শেষ করেই আসবেন। পরে বাধ্য হয়েই অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরুষ ওয়ার্ডের ছাদের প্লাষ্টার খসে গিয়ে রড বেরিয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার থাকার কথা থাকলেও এই কমপ্লেক্স এর অবস্থা একেবারেই নাজুক।

রোগীরা অভিযোগ করেন, সরকারের রোগী প্রতি ১৪৭ টাকা খাবারের জন্য বরাদ্দ থকলেও হাসপাতালের কেরানীসহ সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভাগবাটোয়ারা করে গিলে খেয়ে ৪৭ টাকার খাবারও পায়না তারা। এছাড়াও অধিক রোগী ভর্তি দেখিয়ে টাকা উঠিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের ভিতরের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে চলে খাবার থেকে শুরু করে ঔষধ বিক্রয়। সেখানে কেউ কিছু বলতে গেলে তাকে দেখানো হয় নানা ভয়ভীতি।

সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাসপাতালের কর্মচারী কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও আনেক দিন থেকে সেখানে অবস্থান করায় অসহায় হয়ে পড়েছেন সংশ্লীষ্টরা। মাঝে মধ্যে হাতেনাতে ঔষধ বিক্রয়ে ধরা খেয়ে ও অভিযোগ পেলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যাবস্থা নেয়া হয়না তাদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে অনেকে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেখানে সাপ্তাহে একদিন থাকেন। সেই সুবাদে হাসপাতাদের কিছূ অসাধু কর্মকতারা চালিয়ে যাচ্ছেন দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রনয় কান্তি দাসের সাথে যোগাযোগ করতে দুইদিন অফিসে গিয়েও তাকে না পেয়ে মোবাইলফোনে কল করলে তিনি অফিসে এসে কথা বলতে বলেন।

পরে তিনি জানান, সেখানে ডাক্তার ও নার্স এবং ওয়ার্ডবয়রা নিয়মিত থাকে। এসব অভিযোগ মিথ্যা, তার পরেও খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে । অভিযোগ প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys