Home সারাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ কমিশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদদাতারা ছাড় পাবে না

কোস্টগার্ডের জাহাজ কমিশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদদাতারা ছাড় পাবে না

by jonoterdak24
0 comment

 

চট্টগ্রাম অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো জঙ্গি রাষ্ট্র নয়, জঙ্গি দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদদাতাদেরকে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদী, সাগর, উপকূল এবং গভীর সমুদ্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও নিরাপদ রাখা, জানমালের নিরাপত্তা বিধান, মানব পাচার ও মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য যে কোনো চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সমুদ্র দূষণ রোধে কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করছেন।

কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হওয়া বিদেশ থেকে আমদানিকৃত দুটি জাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কোস্টগার্ড বার্থে এই কমিশনিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে কোস্টগার্ডের জন্য ইতালি থেকে কেনা মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গভীর সমুদ্রে অভিযানে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষম এ দুটি জাহাজের কমিশনিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় চার নেতার মধ্যে দুই নেতার নামে উৎসর্গ করা জাহাজ দুটির নামকরণ করা হয়েছে সিজিএস সৈয়দ নজরুল এবং সিজিএস তাজউদ্দিন আহমেদ। ইতালি থেকে আরো দুটি জাহাজ এ বছরই কোস্টগার্ডে যুক্ত হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর শহীদ জাতীয় চার নেতা নামে ইতালি থেকে আমদানিকৃত এসব জাহাজ নামকরণ করা হয়েছে। এবছরই অপর দুটি জাহাজ সিজিএস মনসুর আলী এবং সিজিএস কামরুজ্জামান কমিশন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থলভাগের সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দৃষ্টি এখন সমুদ্রের দিকে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সমুদ্রসীমা যথাযথভাবে নির্ধারিত হওয়ার ফলে নিজ জলসীমায় আমাদের অধিকার আরো সুদৃঢ় হয়েছে। সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা ছাড়াও অঢেল সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে এই বঙ্গোপসাগরে। এই সম্পদের অন্বেষণ, আহরণ এবং সংরক্ষণ আমাদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণসহ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলজসম্পদ সুরক্ষা তথা নদী পথের নিরাপত্তাসহ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জলদস্যুতা দমনে কোস্টগার্ডের ভূমিকা অপরিসীম।

কোস্টগার্ড স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সুবিশাল সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার আপামর জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে অসামান্য অবদান রাখছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোস্টগার্ডের কর্মতৎপরতা বহির্বিশ্বে সমাদৃত। এ কারণেই চট্টগ্রাম বন্দর আন্তজার্তিক মেরিটাইম ব্যুরোর বিবেচনায় নিরাপদ বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। চোরাচালান ও অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ কার্যক্রমে কোস্টগার্ডের বার্ষিক সাফল্য আর্থিক মানদণ্ডে হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। কোস্টগার্ডের জনবল এবং সমুদ্রগামী বড় জলযান বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিশেষ বিবেচনায় আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কোস্টগার্ড সৃষ্টি ও বিকাশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের আনা বিলের কারণেই কোস্টগার্ডের সৃষ্টি হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার কোস্টগার্ডের বিভিন্ন জোনের কার্যালয়ের জন্য ভূমি প্রদান, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন ধরনের বোট হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ডের কার্যক্রম চালু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ বছর ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোস্টগার্ডের স্টেশনসমূহে অবকাঠামোসহ ৩০টি কোস্টাল সাইক্লোন ম্যানেজমেন্ট সেন্টা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৪৮টি পেট্রল বোট নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনটি প্রকল্পের আওতায় কোস্টগার্ড বেইসসমূহে অফিসার ও নাবিকদের বাসস্থান, অফিসার্স মেস, নাবিক নিবাস, প্রশাসনিক ভবন তৈরি করা হচ্ছে। উন্নয়ন এবং রাজস্ব বাজেট থেকে ৫ বছর মেয়াদে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা কোস্টগার্ডের উন্নয়নে বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালী অঞ্চলে নিজস্ব প্রশিক্ষণ বেইস তৈরির মাধ্যমে কোস্টগার্ডের জনবল সক্ষমতাও সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পূর্বে কোস্টগার্ডে নতুন যুক্ত হওয়া সিজিএস সৈয়দ নজরুলের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এম সালেহ উদ্দিন এবং সিজিএস তাজউদ্দিন আহমেদের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এম হাসান তারিক মণ্ডলের হাতে জাহাজ দুটির কমিশনিং ফরমান তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্টগার্ড বহরে কার্যক্রম শুরু করল জাহাজ দুটি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোস্টগার্ড বার্থ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ এবং নতুন যুক্ত হওয়া সিজিএস সৈয়দ নজরুল পরিদর্শন করেন। এর আগে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার চট্টগ্রামে বিমানবাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে কোস্টগার্ডের একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

নতুন যুক্ত হওয়া জাহাজ দুটির প্রত্যেকটি ৮৭ মিটার লম্বা, সাড়ে ১০ ফুট চওড়া ও ১৩শ টন ধারণক্ষমতার। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৩ নটিক্যাল মাইল বেগে সাড়ে তিন হাজার ফুট নটিক্যাল মাইল অতিক্রম করতে পারে জাহাজ দুটি। ইতালি থেকে আনা জাহাজ দুটি গত ২ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছায়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, তিন বাহিনী প্রধান এবং কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys