Home অর্থনীতি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে চুক্তির হিড়িক সাত বছরে চুক্তি ২৪, আলোর মুখ দেখেনি একটিও প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৬,

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে চুক্তির হিড়িক সাত বছরে চুক্তি ২৪, আলোর মুখ দেখেনি একটিও প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০১৬,

by jonoterdak24
0 comment

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে একের পর এক চুক্তি হচ্ছে। এ পর্যন্ত চুক্তি করা হয়েছে ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রধান জ্বালানি কয়লার উৎস সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমদানির কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট হয়নি দেশগুলোর নাম। কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা হলেও তেমন একটা অগ্রগতি নেই। এ ছাড়া কয়লা সংরক্ষণে তৈরি করা হয়নি কোনো অবকাঠামো। দেশের খনিগুলো থেকে কয়লা উত্তোলনের পদ্ধতি নিয়ে রয়েছে নানা জটিলতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন একটি বড় প্রশ্ন।

সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার অর্ধেক জুড়ে আছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা রয়েছে ৪০ হাজার মেগাওয়াট। এর অর্ধেক ধরা হয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। বাস্তবতা হলো সরকারের গত সাত বছরে গ্যাসভিত্তিক ও তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সফল হলেও একটিও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি। ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া নতুন কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ২৪টি চুক্তি করা হয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২১ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে রয়েছে ৭ হাজার ৯৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭টি প্রকল্প। বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে ৩ হাজার ৫১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭টি প্রকল্প। সরকারি, বেসরকারি ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ১০ হাজার ১৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রয়েছে ৯টি প্রকল্প। বাণিজ্যিকভাবে নির্মাণ পরিকল্পনায় রয়েছে আরও ৭ প্রকল্প, যার উৎপাদন ক্ষমতা ১৫০ মেগাওয়াট।

নিজস্ব জ্বালানি উৎস গ্যাস ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি তেলে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হলেও শঙ্কা রয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। সরকারি, বেসরকারি ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সরকার দফায় দফায় চুক্তি করলেও বর্তমান সরকারের সাত বছরে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই আলোর মুখ দেখেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেন্টাল, কুইকরেন্টাল বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকার যতটা পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, কয়লার ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ। ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।

এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি করছে সরকার অথচ কয়লার উৎস ঠিক করতে পারেনি। দেশি কয়লা উত্তোলনে রয়েছে নানা জটিলতা। রয়েছে মতবিরোধও। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, দেশের নিজস্ব কয়লা ভবিষ্যৎ জ্বালানির জন্য রেখে দেওয়া হবে। অন্যদিকে আমদানিনির্ভর কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হলেও কোন দেশ থেকে আমদানি করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিনির্ভর কয়লা দিয়ে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করা হবে। মূলত আমদানি করা হবে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া অথবা ভারত থেকে। অবশ্য সেসব দেশের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও কার্যত অগ্রগতি নেই।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন সত্যিকার অর্থেই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যে পরিমাণ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা এটি একটি বড় প্রশ্ন। বিশাল পরিমাণ কয়লা আমদানি এবং এর জন্য যে ধরনের অবকাঠামো, নৌপথ দরকার তা নেই। এটি তৈরিও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কয়লার উৎস নিশ্চিত করা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আমাদের সময়কে বলেন, গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে। তরল জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যয়বহুল। ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষকে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা কয়লার উৎস নির্ধারণে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। প্রয়োজনে সেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি করে কয়লার মাইন ক্রয় করব বা লিজ নেব। কয়লা পরিবহন বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের কী হবে, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতাভুক্ত। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কোল টার্মিনাল নির্মাণসহ কয়লা আমদানির প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার অর্ধেক বাস্তবায়ন করাই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দেশি কিছু কোম্পানি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে তিন-চার বছর হলো। ওই কোম্পানিগুলো দফায়-দফায় সরকারের সঙ্গে বৈঠক করছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অগ্রগতি নেই। অনেক কোম্পানি জমি পর্যন্ত ক্রয় করেনি। কয়েকটি কোম্পানি প্রভাবশালী হওয়ায় সরকার তাদের সঙ্গে চুক্তি পর্যন্ত বাতিল করতে পারছে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, দেশি কোম্পানিগুলো যদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করত, তবে দুয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনেও চলে আসত।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি উদ্যোগে ও দুই দেশের যৌথ মালিকানায় স্থাপিত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে একমাত্র বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী থার্মাল কোল পাওয়ার প্লান্টের কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্ষমতা হচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াট। যদিও এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে রয়েছে দেশের পরিবেশবাদী ও সুশীল সমাজের বিরোধিতা। এ ছাড়া রয়েছে কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প। নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের মাতারবাড়িতে আরও একটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও চায়না সরকারের যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও মালয়েশিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে মহেশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর সরকারের যৌথ উদ্যোগে মহেশখালীতে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হয়। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের অধিকাংশই রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি5

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys