Home সিলেট বিভাগ জুড়ীতে শ্রমিকদের স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাৎ

জুড়ীতে শ্রমিকদের স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাৎ

by jonoterdak24
0 comment

নাজমুন নাহার: জুড়ীতে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন এক ইউপি সদস্যা। ঘটনাটি উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় জায়ফরনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আবদুল বারী খলিফার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বন্যার কারণে ওই রাস্তায় কাজ করা সম্ভব না হওয়ায় স্থান পরিবর্তন করে একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের হামিদপুর গ্রামের কেজি স্কুল থেকে আবদুল বারিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুশনা বেগম এ প্রকল্পের দায়িত্ব পেলেও স্থানীয় লোকদের দিয়ে নামমাত্র একটি প্রকল্প কমিটি করেন। কর্মসৃজন প্রকল্পের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র ৪০ জন শ্রমিক ৪০ দিন এ প্রকল্পে কাজ করার কথা।

প্রকল্পের নিয়মিত শ্রমিক হান্নান খাঁ বলেন, ‘রোজার মাসে কাজ হবে’ শ্রমিকদের সেভাবে কাজের আশ্বাস দিয়ে রোজার আগে রুশনা বেগম সব শ্রমিকের ব্যাংক হিসাবের চেক বই নিজের কাছে নিয়ে নেন। পরে বলেন, ২০ হাজার টাকার একটি কাজ এসেছে সেটি হাজার হিসেবে করতে হবে। পরে চুক্তিতে প্রকল্প বহির্ভূত কিছু শ্রমিক নিয়ে ৩০ হাজার ২০০ টাকার কাজ করি। পরে জানলাম ৪০ জন নিয়মিত শ্রমিকের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তিনি আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমাকে জেল খাটানো হবে বলে রুশনা বেগমের এক আত্মীয় হুমকি দেন।

টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কার্ডধারী ২৯ জন শ্রমিকের স্বাক্ষরে ৮ আগস্ট জেলা প্রশাসক ও ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। রোববার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী সরেজমিন তদন্তে গেলে উপস্থিত উত্তেজিত শ্রমিকসহ স্থানীয় দুই শতাধিক লোক তাকে চোর চোর বলে ধাওয়া করলে কয়েকজন মুরব্বির হস্তক্ষেপে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন বলে উপস্থিত এলাকাবাসী জানান।

স্থানীয় মুরব্বি ইলিয়াছ খাঁ, সুলেমান খাঁ, আজাদ মিয়া, আবদুস সামাদ, আহাদ আলী প্রমুখ বলেন, রুশনা মেম্বার বলেছেন ২০-২৫ হাজার টাকার কাজ এসেছে। পরে শুনলাম জাল স্বাক্ষরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল লতিফ বলেন, রুশনা মেম্বার কাজ ফেরত যাওয়ার কথা বলায় এলাকার স্বার্থে এবং স্বচ্ছভাবে কাজ করবেন এই শর্তে আমি স্বাক্ষর দেই। তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। জনতা ব্যাংক জায়ফরনগর শাখায় গিয়ে যে স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন হয়েছে তার সঙ্গে শ্রমিকদের স্বাক্ষরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

শাখা ব্যবস্থাপক পীযুষ কান্তি দাশ ও এইও মৃণাল কান্তি দেবনাথ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ২১ জুন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখার সময় থাকে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসারের স্বাক্ষর দেখে আমরা টাকা দেই।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রুশনা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ যথাযথভাবে হয়েছে। স্থানীয় কিছু লোক অযথা আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী বলেন, মূল হোতা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন আছে।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys