Home জাতীয় জৈন্তাপুরে ‘মুক্তিযোদ্ধা গ্রাম’ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ –

জৈন্তাপুরে ‘মুক্তিযোদ্ধা গ্রাম’ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ –

by jonoterdak24
0 comment

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি, বুধবার, ১৬ মার্চ ২০১৬ :: পাথর ভাঙ্গার কল স্থাপনের শর্ত পূরণ করতে ‘স্টোন ক্রাশিং জোন’ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। ২০১৩ সালের নীতিমালার আলোকে স্টোন ক্রাশিং জোন করতে বেছে নেওয়া হয়েছে একটি হাওর ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ২১ মুক্তিযোদ্ধাসহ ২ শত পরিবারের ৬১.৫ একর বসতবাড়ি এবং ফসলি জমি। গ্রামবাসীর তাদের ৬১.৫ একর ভূমি রক্ষার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

আবেদন সূত্রে জানাযায়- হতদরিদ্র, গরীব অসহায়, কৃষক ও শ্রমিক সম্প্রদায়ের প্রায় ২ শত পরিবার নিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ডিবিরহাওর গ্রাম। উপজেলার মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ২১ বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ি হল ডিবিরহাওর গ্রামে।

এলাকায় বেশির ভাগ লোক গ্রামটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা গ্রাম’ নামেই ডাকেন। কারণ এতো মুক্তিযোদ্ধা জৈন্তাপুরের আর কোন গ্রামে নেই। মুক্তিযোদ্ধাসহ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছেন। সম্প্রতি সরকার মানুষের কল্যাণে দেশের আত্মসামাজিক উন্নয়নে পাথর ক্রাশিং জোন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তারা আবেদনে বলেন- সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচীকে স্বাগত জানাই। সে জন্য কি বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন ‘বিন্না ঘর’ ও ফসলি ভূমি দিতে হবে এমন প্রশ্ন গ্রামের মানুষদের।

এদিকে সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে গত জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক ভাবে জায়গা চিহ্নিত করন, সম্ভাব্যতা যাচাইসহ সরেজমিন পর্যায়ে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ফেব্র“য়ারি মাসে এর নীতিগত অনুমোদন লাভ করে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে স্টোন ক্রাশার জোন করার স্থান নির্ধারণ করা হয়। ডিবির হাওর মৌজার জেএল ১৫ নম্বর ২ নম্বর খতিয়ানের ৬, ৫/২৬, ৫/২৫, ৮/২৩, ৫/১০, ২১ ও ২৪ নম্বর দাগে মোট ৬১ দশমিক ৫ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে ২১ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ গ্রামের বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্ঠি আর্কষণের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন দাখিল করেন। এ আবেদনে ১২১ জন ব্যক্তি  স্বাক্ষর করেছেন।

কিন্তু আমাদের আবেদনে সাড়া না দিয়েই চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের উচ্চ মহলে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। এলাকাবাসীর দাবী উল্লেখিত ৬১ দশমিক ৫ একর জায়গা ছাড়া না হলে আন্দোলনে নামবেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা নূর মিয়া, আব্দুছ ছোবহান, আব্দুল মনাফ, শামছুল হক, আব্দুল খালেক, সুবল চন্দ্র বিশ্বাস, জিতেন্দ্র বিশ্বাস, কৃষ্ণ বিশ্বাসের সাথে আলাপকালে তারা বলেন- ‘‘সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পূর্ণবাসনের জন্য কমপে¬ক্স বরাদ্ধ করেছে। কিন্তু সেই কমপে¬ক্স এখন পর্যন্ত করা হচ্ছে না বরং অর্থ ফেরত পাঠানোর পায়তারা করা হচ্ছে। আমাদের ‘বিন্না’ দিয়ে বানানে কুঁড়েঘর ও ফসলি জায়গা অধিগ্রহণ করে আমাদের শরনার্থী করতে চায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। জীবেনের শেষপ্রান্তে এসে বেঁেচ থাকার লক্ষ্যে ভুমি রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে আবারও অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হব।’’

মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে করজুড়ে আবেদন জানিয়েছেন- ‘‘তাদের মাথা গুজার একমাত্র আশ্রয় “বিন্না ঘর ও ভূমি অধিগ্রহণ করিও না, আমরা শেষ বয়সে যাব কোথায়।’’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তার ফোন রিসিভ হয়নি

Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys