Home অর্থনীতি পথে পথে বাধা সিলেটের উন্নয়ন’

পথে পথে বাধা সিলেটের উন্নয়ন’

by jonoterdak24
0 comment

মোঃ জসিম উদ্দিন,জনতার ডাক :1উন্নয়নের মহাসড়কে পথে পথে বাধার মুখে পড়েছে সিলেট। মুখ থুবড়ে আটকে আছে উন্নয়নের চাকা। আর যেন ঘুরছে না। অদৃশ্য শক্তির টানে সিলেটের অগ্রযাত্রায় টান পড়ছে পেছন থেকে।

সিলেটের সন্তান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজ থেকে অনেক কিছুই সাজিয়েছেন। কখনো কখনো দিয়েছেন টাইমফ্রেমও। কিন্তু কোনো কিছুই যেন এগুচ্ছে না। এ নিয়ে পর্দার আড়ালে মন্ত্রী, এমপি পর্যায়ের ব্যক্তিদের ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছেন না। সিলেট উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে গেছে-গেলো দুই বছর আগেও সেটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন সিলেটবাসী। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সিলেটবাসীকে উন্নত হওয়া স্বপ্ন দেখালেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার কাজে উন্নয়ন নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিফুয়েলিং সিস্টেম চালু করেছেন অথমন্ত্রী। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ফোরলেনে করার প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু করেছিলেন তিনি। সিলেট-আখাউড়া রেললাইনকে ব্রডগেজ লাইন করার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার এই তিন পথই ক্রমেই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নানা কারণে সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হচ্ছে যোগাযোগ। এ কারণে অনেক আগেই সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা হয়। বড় আকারের রানওয়ে নির্মাণ করে বিশ্বের যেকোনো কোম্পানির উড়োজাহাজ উঠানামার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে নির্মাণ  করা হয় রিফুয়েলিং সিস্টেমসও। প্রবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের তরফ থেকে এগুলো করা হলেও অদৃশ্য শক্তির টানে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে অকেজো করে রাখা হয়েছে। ওসমানীতে সরাসরি আসতে চায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমান। প্রবাসীরা অভিযোগ করেছেন, বিমানের কর্মকর্তারাই ইচ্ছে করে ওসমানীতে বিদেশি কোম্পানির উড়োজাহাজ কোম্পানির বিমানকে সার্ভিস দিচ্ছে না। এ কারণে ফ্লাই দুবাই বছর দুয়েক আগে মাত্র একটি ফ্লাইট অপারেট করলেও আর আসেনি। এয়ার এরাবিয়া আসবে আসবে বলে বিমানের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় আসেনি। বিমান বাংলাদেশের দু-একজন বড় কর্তা ব্যক্তি সিলেটকে নিয়ে বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। আর এ বিষয়টি সরকাররের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত ওয়াকিবহাল রয়েছেন। বহির্বিশ্বের যাতায়াতের বেলায় সিলেটের যাত্রী ঢাকা ছুঁয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু ফেরার পথে তারা সরাসরি বৃটেন কিংবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসতে পারছেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেটবাসীর অন্যতম শক্তি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থানের জন্য ওই বিমানবন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অপারেট শুরু করলে শুধু যে সিলেট অঞ্চলের নয় ভারতের অনেক প্রদেশের যাত্রীরা এই বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করবেন। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রচেষ্টা থাকলেও সরকারের তরফ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। বিমানের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সিলেট-ঢাকা হাইওয়ে ফোরলেনে উন্নীত করার জন্য সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

কয়েক মাস আগে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিলেটে সফরকালে নিজেই জানিয়েছিলেন, এই সড়কের কাজের জন্য সরকার ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এবং এই সরকারের শাসনামলে কাজ শুরু ও শেষ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুটের অবস্থা নাজুক। আগে যেখানে এই সড়কে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগতো ঢাকায় যেতে এখন ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। ভাঙ্গাচোরা রাস্তার কারণে সড়ক পথের জার্নি ক্রমেই বিপদজনক হয়ে উঠেছে। এই রাস্তা নির্মাণে সড়ক মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের টালবাহানার বিষয়টি প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে বিদেশি অর্থায়নে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাস্তাটি ফোর লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে সেটি নাকচ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে দৃশ্যমান হয়েছে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে এই সড়কটির কাজ শুরু এবং শেষ হতে আরও ১০ বছর সময় অতিবাহিত হতে পারে। ফলে নতুন করে ঢাকা-সিলেট রুট নিয়ে সমস্যা লাগবের কোনো সম্ভাবনা নেই। আর ঢাকা-সিলেট রুট ফোরলেন না হলে কোনোভাবে সিলেটের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতের পথ সহজ হবে না। এতে করে সিলেটের উন্নয়ন চরমভাবে ব্যাহত হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ব্রডগেজ হয়ে গেছে। কিন্তু সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত রেলপথকে ব্রডগেজ করার কোনো উদ্যোগ এখনও গ্রহণ করা হচ্ছে না। সড়ক পথের বিকল্প হিসেবে এখনও রেলপথকেই বেছে নিচ্ছেন সবাই। কিন্তু মান্দাতার আমলের সড়ক পথেই চলছে সিলেটের রেল। হয়নি কোনো উন্নয়নও। গেলো মাসে পাহাড়ি ঢলে কুলাউড়ার কাছে ঢাকা-সিলেট রেলপথের একটি সেতু ভেসে গিয়েছিল। এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, সিলেটের রেলপথের দৃশ্যমান অবস্থা। সিলেট-ঢাকা রেলপথকে আধুনিকায়ন করতে হলে ব্রডগেজ লাইন চালু করা একান্ত প্রয়োজন। আর এ বিষয়টি সিলেটবাসীর অন্যতম দাবি হলেও সেদিকে খেয়াল রাখছেন না কেউ। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ও এক্ষেত্রে সিলেটবাসীর ন্যায্য হিস্যা প্রদান করছে না।

এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের স্থায়ী কমিটির সাবেক প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত একেএম আবদুল মোমেন কয়েক দিন আগে জানিয়েছিলেন, সিলেটের যোগাযোগের তিনটি পথের দ্বার উন্মোচিত হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে সিলেট। আর সিলেটের উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়নও বাড়বে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উন্নয়ন নিয়ে বলতে হয় না। তিনি সব জানেন। সিলেটের উন্নয়নে তিনি নিজেও আন্তরিক রয়েছেন। – See more at: http://m.sylhetview24.com/news/details/Sylhet/61216#sthash.96lmrqCa.cxxoVFjn.dpuf

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys