Home রাজনীতি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পরের ভোটে সব দল অংশ নেবে : জাতির উদ্দেশে ভাষণ

প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পরের ভোটে সব দল অংশ নেবে : জাতির উদ্দেশে ভাষণ

by jonoterdak24
0 comment

 

 প্রতিবেদক : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে গঠিত নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করার জন্যও রাজনৈতিক দলসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে অংশ নেই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত-সমৃদ্ধ, সুন্দর এবং বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার দেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয় বর্ষপূর্তি (সরকারের টানা ৮ বছর) উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সবাইকে নতুন বছর ২০১৭-এর শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকারের বর্ষপূর্তির দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণ শুরু করেন। তিনি বলেন, আজ ১২ জানুয়ারি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে আজকের দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি তৃতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করি। আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের তৃতীয় বছরপূর্তিতে দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ভাষণের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন হারানো পরিবার এবং একাত্তরে নির্যাতিত দুই লাখ মা-বোনের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ এর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে।

টানা আট বছর ধরে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সমর্থন দিয়ে যাওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাফল্য-ব্যর্থতার বিচারের ভার জনগণের হাতেই দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আপনাদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি- সে বিচারের ভার আপনাদের ওপরই রইল। তবে আমি এটুকু দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দেশের এবং দেশের মানুষের উন্নয়ন এবং কল্যাণের জন্য আমরা আমাদের চেষ্টার ত্রুটি করিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল গত আট বছরে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাফল্যগাথা। দুর্গম এই পথ পাড়ি দিতে বার বার বাধার মুখে পড়ার কথাও জাতিকে মনে করিয়ে দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, বিপুল জনসংখ্যার এদেশে সম্পদের পরিমাণ সীমিত। দীর্ঘকাল দেশে কোনো আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়নি। বহু সমস্যা পুঞ্জীভূত হয়ে পাহাড়-সমান হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মোকাবিলা করতে হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিরুদ্ধ পরিবেশ। বৈশ্বিক বৈরী অর্থনৈতিক অবস্থাও উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বার বার। কিন্তু সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চলতি মেয়াদের তিন বছর অতিক্রম করলাম। আমাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। জনগণের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, পঞ্চদশ সংশোধনী ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির নির্বাচন বর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দল এবং প্রার্থীর অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে সুষ্ঠুভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত ছিল। সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন বিষয়ে অভিমত দিচ্ছে, আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আশা করি, রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, তার ওপর সব রাজনৈতিক দল আস্থা রাখবে এবং সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেবে।

জনগণ সন্ত্রাসী আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না : শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমরা অবৈধ পথে ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করেছি। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনকালীন একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সংবিধানের আওতায় আমরা সবধরনের ছাড় দিতেও প্রস্তুত ছিলাম। এমনকি বিএনপি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক, তাও আমরা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্ব সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি বরং উনি (খালেদা) সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেন। পেট্রোলবোমা, অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা করে মানুষ হত্যায় মেতে উঠলেন। শতাধিক মানুষ হত্যা করলেন। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধবংস করলেন।

বিএনপির আন্দোলনে জ্বালা-পোড়াওয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশবাসী তাদের এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। তিন মাসে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হাতে ২৩১ জন নিরীহ মানুষ নিহত এবং ১ হাজার ১৮০ জন আহত হয়। তারা ২ হাজার ৯০৩টি গাড়ি, ১৮টি রেলগাড়ি ও আটটি লঞ্চে আগুন দেয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাঙচুর এবং ছয়টি ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়।

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টকারীদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে নেই : সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তবে ধর্মান্ধ নয়। হাজার বছর ধরে এ দেশের মাটিতে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শান্তিতে বসবাস করছেন। যারা এই ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, তাদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না। তিনি ইমাম, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, স্থানীয় মুরুব্বি, আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং অভিভাবককে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানের প্রতি নজর রাখুন। তাদের এমনভাবে পরিচালিত করুন, যাতে তারা ভুল পথে পা না বাড়ায়।

আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী : আট বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়, মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম। ধারাবাহিকভাবে ৬.৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে পুরো বিশ্বকে আমরা তাক লাগিয়ে দিয়েছি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১১%। আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.৪%। অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার এবং নি¤œআয়ের দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছি। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৯তম ও ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে। জনগণের মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে আজ ১ হাজার ৪৬৬ ডলার হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। এখন তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২২.৪% শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ২৪.২৩% থেকে ১২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫/১৬ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যে হার ৭/৮ শতাংশে নামিয়ে আনা।

আমরা এগিয়ে যাচ্ছি : প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তিন বছরে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন। একদিকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যেমন বেড়েছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে মূল্যস্ফীতি ছিল ডাবল ডিজিটে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৫.০৩ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১০.৫২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আমরা জাতীয় রপ্তানি নীতি ঘোষণা করেছি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্তভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে ৩২ বিলিয়ন ডলারেরও ওপর।

আট বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবছর রেকর্ড ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ৫ কোটি মানুষ নি¤œবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের নেয়া বিদ্যুৎব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি; বয়স্কভাতা, বিধবা ও দুস্থ নারী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি চালু; হিজড়া এবং বেদে সম্প্রদায়ের ভাতা; চা-শ্রমিকদের জন্য অনুদান; ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের অধীনে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি; আশ্রয়ণ প্রকল্প; ১০ টাকা মূল্যে চাল সরবরাহ; শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি; বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ বিমানের জন্য ছয়টি সুপরিসর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করেছি। ২০১৮ সাল নাগাদ আরো চারটি উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। পদ্মা সেতুর অন্যপ্রান্তে মাদারীপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণের সমীক্ষার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে : আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা থেকে শুরু করে এ দেশের যত উল্লেখযোগ্য অর্জন, তার সবগুলো এনেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। জাতির পিতা আমাদের মাথা নত না করতে শিখিয়েছেন। আমরা সকল বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করব।

আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নি¤œ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হয়। বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys