Home আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিনে আনা জিনিসের মাধ্যমে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হব না তো?

বাজার থেকে কিনে আনা জিনিসের মাধ্যমে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হব না তো?

by Chief Editor
0 comment

ডেস্ক নিউজ : [২] করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক দেশে মানুষের জীবনধারা এখন অনেক বদলে গেছে। সংক্রমণের ভয়ে মানুষ অনেক বেশি নিজেদের ঘরের ভেতর আলাদা করে রাখছেন।

[৩] বিভিন্ন দেশে মানুষজনকে বলা হচ্ছে শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য বাজারে যেতে। কিন্তু অনেক মানুষই উদ্বিগ্ন যে বাজার থেকে ঘরে আনা জিনিসগুলো কি জীবাণুমুক্ত? সেগুলোতে অদৃশ্য জীবাণু লেগে নেই তো? থাকলে কী করা উচিত?

[৪] বাজারের মধ্যে ঝুঁকিগুলো কী?

[৫] আমরা জানি আক্রান্ত মানুষের হাঁচি কাশির সঙ্গে বেরন সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম থুতুকণার মধ্যে ভরা থাকে এই করোনাভাইরাস। হাঁচি কাশির মাধ্যমে সেগুলো আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকে বেরিয়ে বাতাসে মেশে।

[৬] আপনি যদি সেই বাতাস নি:শ্বাসের সঙ্গে টেনে নেন, অথবা সেই ভাইরাস ভরা কণাগুলো যেসব জায়গায় পড়ছে সেগুলো আপনি হাত দিয়ে স্পর্শ করে সেই হাত যদি নিজের মুখে দেন আপনি কার্যত সংক্রমিত হবেন।

[৭] কাজেই বাজারে বেরিয়ে এবং অন্য লোকের কাছাকাছি আসার মাধ্যমে আপনার ঝুঁকি বাড়ছে। আর সে কারণেই বলা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন- অর্থাৎ অন্য মানুষের থেকে অন্তত দুই মিটার (প্রায় ছয় ফুট) দূরত্বে থাকুন।

[৮] লন্ডনের স্কুল ফর হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের অধ্যাপক স্যালি ব্লুমফিল্ড বলছেন ভাইরাস ছড়ানোর একটা ঊর্বর ক্ষেত্র হল বাজার। “বাজারে আপনি যেসব জিনিস কিনছেন সেগুলো আপনার আগে আরও অনেক মানুষ হয়ত হাত দিয়ে ধরেছে, নাড়াচাড়া করেছে।

[৯] “যেখানে পয়সা দিচ্ছেন সেখানে আরও লোকের হাত পড়েছে, আপনি নগদ অর্থে দাম দিলে যে খুচরা হয়ত আপনাকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে সেগুলোও কিছুক্ষণ আগে অনেক হাত ঘুরে এসেছে। আপনি যদি এটিএম মেশিন থেকে পয়সা তুলে থাকেন, সেখানেও মেশিনের বোতামে আপনার আগে হয়ত আর কারও হাত পড়েছে। এরপর রয়েছে বাজারে আপনার ধারেকাছে দাঁড়ানো মানুষরা। এদের মধ্যে কে আক্রান্ত তা কি আপনি জানেন?”

[১০] এই ঝুঁকিগুলো কীভাবে এড়াবেন?

[১১] বাজারে যাবার আগে এবং বাজার থেকে ফিরে এসে সাবান ও পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে ভাল করে হাত ধোবেন অথবা অ্যালকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েও হাত পরিষ্কার করতে পারেন।

[১২] ধরে নেবেন আপনি যেসব জায়গা হাত দিয়ে ধরেছেন সেগুলো খুব সম্ভবত সংক্রমিত। যেমন হ্যান্ড রেলিং, দরোজা, শপিং বাস্কেট, ট্রলি। আর যা কিনেছেন সেগুলোও। কাজেই বাজার করার পর হাত না ধোয়া পর্যন্ত মুখে কখনই হাত দেবেন না।

[১৩]· পারলে অথবা সুযোগ থাকলে নগদ অর্থ ব্যবহার না করে কার্ড ব্যবহার করে বাজার করুন। তবে কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছুটা ঝুঁকি আছে। পশ্চিমের দেশগুলোতে কন্টাক্টলেস কার্ড আছে অর্থাৎ কার্ড ব্যবহারের সময় কিছু সই করতে বা পিন নম্বর পাঞ্চ করতে হয় না। তাই কার্ড ব্যবহারের সময় দোকানের কলম ব্যবহার করলে বা পিন নম্বর দেবার জন্য বোতাম চাপতে হলে পাওনা চুকিয়ে দেবার পর হাত ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

[১৪] কেনা জিনিস নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তা করব?

[১৫] রান্না খাবারের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রিমত হবার কোন তথ্যপ্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন খাবার রান্না হলে এই ভাইরাস মরে যায়।

[১৬] কিন্তু ঝুঁকি আছে কাঁচা শাকসব্জি, ফলমূল নিয়ে। যেহেতু অন্য ক্রেতারা বাজারে যে কোন জিনিস হাত দিয়ে ধরে থাকতে পারে, এমনকী বিক্রেতারাও সেগুলো ধরছে, তাই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই যে সেগুলো পুরো জীবাণুমুক্ত।

[১৭] কাঁচা বাজারের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ব্লুমফিল্ডের পরামর্শ হলো সবকিছু ভালো করে কলের ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে তারপর সেগুলো তুলে রাখবেন বা ব্যবহার করবেন।

[১৮] আর প্লাস্টিকের প্যাকে, টিনের বা কাঁচের পাত্রে বিক্রি হচ্ছে এমন কিছু কিনে আনলে সেগুলো ৭২ ঘন্টা না ছুঁয়ে সরিয়ে রেখে দেবেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে চাইলে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার তরল পদার্থ (ব্লিচ জাতীয় ডিসইনফেকেটন্ট) দিয়ে মুছে নিন। তবে কড়া ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। বোতলের গায়ে দেখে নেবেন কতটা পরিমাণ পানি মিশিয়ে তা হালকা করে নিতে হয়- বলছেন অধ্যাপক ব্লুমফিল্ড।

[১৯] বাসায় পৌঁছে দেয়া খাদ্যসামগ্রী কতটা নিরাপদ?

[২০] আপনাকে বাসাতে বাজার পৌঁছে দেবার যদি ব্যবস্থা থাকে সেটা এক অর্থে ঝুঁকি কমায়, কারণ আপনাকে লোকের ভিড়ে যেতে হচ্ছে না।

[২১] কিন্তু সেক্ষেত্রে ঝুঁকির জায়গাগুলো হল- কেনা জিনিসপত্র অন্য কেউ হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করেছে কীনা, যে ব্যাগ বা থলি বা বাক্সে করে আপনার বাজার আনা হয়েছে সেগুলো কারা ধরেছে এবং যে ড্রাইভার হাতে করে আপনার বাজার পৌঁছে দিচ্ছে সে সংক্রমিত অথবা জীবাণু বহন করছে কীনা।

[২২] স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল- যে বাজার নিয়ে এসেছে তাকে বলুন নিরাপদ দূরত্ব থেকে বাজারের ব্যাগ নামিয়ে চলে যেতে এবং কেনা জিনিসগুলো কাঁচা বাজার হলে কলের ঠাণ্ডা পানিতে সেগুলো ধুয়ে শুকিয়ে তুলে রাখুন। আর বোতল, প্যাকেট বা টিন হলে জীবাণুমুক্ত করার জন্য ঘরে ব্যবহারযোগ্য ব্লিচ পাতলা করে গুলে সেগুলো মুছে নিন। খেয়াল রাখবেন ব্লিচ যেন খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ না করে।

[২৩] সবসময় ব্লিচের বোতল দেখে নিশ্চিত হয়ে নেবেন, যে ব্লিচ জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহার করছেন তা যে কাজে ব্যবহার করছেন তার জন্য সঠিক কিনা এবং তা নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহার করছেন কীনা। খেয়াল রাখবেন ব্লিচ যেন খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ না করে।

[২৪] ইংল্যান্ডের ওয়ারইক মেডিকেল স্কুলের ড. জেমস গিল বলছেন বাসার কাজে ব্যবহার করা যায় এমন ব্লিচ সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করলে এক মিনিটের মধ্যে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়।

[২৫] বাইরে থেকে কেনা খাবার (টেক আওয়ে) কতটা নিরাপদ?

[২৬] স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ব্লুমফিল্ড বলছেন রান্না করা গরম খাবার, যদি তা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা হয় তার থেকে কোন ঝুঁকি থাকে না।

[২৭] বাইরে থেকে কেনা খাবার ঘরে এনে খেতে চাইলে গরম খাবার কিনবেন – বাসি খাবার ভাল করে গরম করে খাবেন যাতে কোনরকম জীবাণু গরম করার সময় মরে যায়।

[২৮] পিৎসা জাতীয় খাবার কিনলে সেটাও মাইক্রোওয়েভে দু মিনিট ধরে গরম করে নেবেন, পরামর্শ অধ্যাপক স্যালি ব্লুমফিল্ডের।

[২৯] তিনি আরো বলেছেন, বাজার থেকে আনানো গরম খাবার যে ঠোঙা বা বাক্সে করে আসছে, সেগুলো ঘরে আনার সঙ্গে সঙ্গে বিনে ফেলে দিন এবং খাবার গরম করে খান।

[৩০] আর খাবার আগে অবশ্যই ২০ সেকেন্ড ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে ভুলবেন না। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ , সূত্র : বিবিসি,

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys