Home সিলেট বিভাগ বিক্রি হচ্ছে সিলেট সমবায় ব্যাংক

বিক্রি হচ্ছে সিলেট সমবায় ব্যাংক

by jonoterdak24
0 comment

  শতবর্ষ ধরে সিলেট নগরীর জেলরোডে দাঁড়িয়ে আছে সিলেট কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড। সমবায়ীদের মধ্যে ঋণদান ও তাদের স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। শত বছরের পথচলায় এ প্রতিষ্ঠানটি সমবায়ীদের আস্থার কেন্দ্র হয়ে উঠার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তার লক্ষ্য থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে। নিজের অস্তিত্ব নিয়েই সংকটে পড়েছে।

‘ঘরের শত্রু’র কারণে প্রতিষ্ঠানটির এখন ঘর হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তোড়জোড় শুরু হয়েছে সমবায় ব্যাংকের ভবনসহ জায়গা বিক্রি করে দেয়ার। সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিক্রির বিজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয়েছে। তবে সমবায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নয়- বিক্রির বিজ্ঞাপনটি দিয়েছেন সিলেট টাউন কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. মঈন উদ্দিন।

সমবায় ব্যাংক চলছে মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিলেট সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সজল চক্রবর্তীর ইশারাতেই। তিনিই মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্য নিয়ন্তা। উপজেলা সমবায়ের শীর্ষ কর্তা হওয়ায় তার উপরে কথা বলার কেউ নেই। প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয় তার হাত দিয়েই হয়, আয়ের হিসেবও তিনিই বুঝে নেন। প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডপত্রও তারই কাছে সংরক্ষিত। তবে প্রতিষ্ঠানটির ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজাদি নাকি নেই সমবায় ব্যাংকের হেফাজতে।

তাই ৯৪ বছর ধরে সিলেট নগরীর জেল রোডে ১৫ শতক ভূমির উপর নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে আসার পর টাউন কো অপারেটিভ সোসাইটি সেই ভূমির মালিকানা দাবি করায় বেশ বেকায়দায়ই পড়েছে সমবায় ব্যাংক। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত কমকর্তার যোগসাজশেই এ জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে সমবায় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা নগদ কিছু টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এ নাটকের সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকেরই অভিযোগ।

সিলেট সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সজল ৩১ বছর ধরে সিলেটে কর্মরত। ১৯৮৬ সালে উপ-পরিদর্শক হিসেবে যোগ দিয়ে এখন তিনি উপজেলা কর্মকর্তা। ৩১ বছরের এ দীর্ঘ যাত্রায় পথঘাট সব ভালোই চিনে নিয়েছেন সজল চক্রবর্তী। কাকে কিভাবে ‘ম্যানেজ’ করে ক্ষমতা হাতের মুঠোয় নিতে হয় তা-ও ভালোমতোই শিখেছেন এ সমবায় কর্মকর্তা। তাই সমবায় ব্যাংকে ‘ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা’র কোনো পদ না থাকলেও ২০০৫ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সিলেট সমবায় ব্যাংকের পুরো নিয়ন্ত্রণ সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সজল চক্রবর্তীর হাতেই।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হওয়ায় সজল চক্রবর্তী নিয়ন্ত্রণ করছেন টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটি, সমবায় কৃষি জমি বন্ধকি ব্যাংকও। সজল চক্রবর্তীরই হাতের মুঠোয় থাকা টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটি দাবি করছে তারই কর্তৃত্বাধীন সমবায় ব্যাংকের ভূমি। সাধারণ সমবায়ীরা তাই এ দুয়ের মাঝে একটি যোগ খুঁজে পেয়েছেন। পেয়েছেন ষড়যন্ত্রের গন্ধও। তারা এখন বুঝতে পারছেন কেন বারবার তাগাদা দেয়ার পরও এতদিন খাজনা বা ভূমিকর দেয়া হচ্ছিল না। তারা সন্দেহ করছেন, অনেক আগে থেকেই ষড়যন্ত্রের এ জাল বিস্তারের শুরু।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, সজল চক্রবর্তী সমবায় ব্যাংকের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেননি। ব্যাংকের সভায় আয় বাড়ানোর জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। বরং ব্যয় বাড়ানোর প্রতিই তাকে আগ্রহী দেখা গেছে। সদস্যদের অনুমতি না নিয়েই নতুন ভবন তৈরির নকশা করিয়ে ব্যাংকের বেশ কিছু টাকা গচ্চা দিয়েছেন। বিভিন্ন সমিতির কাছে থাকা ব্যাংকের পাওনা উদ্ধারেও তার কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। উল্টো ৪৪১টি সমিতির নিবন্ধন বাতিল করে পাওনা উদ্ধারের পথও বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে সজল চক্রবর্তী এভাবে যে ‘মরণকামড়’ দেবেন কারো কল্পনাতেই ছিল না সেটা।

২০১০ সালে নামজারি করতে গেলে তখনই ভূমি বেহাতের বিষয়টি নজরে আসে। তখনই দেখা যায়, সমবায় ব্যাংকের ভূমির মালিক হিসেবে রেকর্ডে নাম উঠেছে সিলেট টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের। ভূমি ফিরে পেতে মামলা দেন সিলেট সমবায় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজল চক্রবর্তী। তবে মামলাটি যে একটি আইওয়াশ তা কিছুদিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে থাকে সমবায় ব্যাংকের সদস্যদের কাছে। ব্যাংকের কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন সভায় মামলা না চালিয়ে আপোস নিষ্পত্তি বিষয়টি এজেন্ডায় উঠে এলে অনেকের মনেই সন্দেহ জাগে সমবায় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় সমবায় ব্যাংকের ২০১৬-১৭ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায়। ২০১৭ সালের ২২শে মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত সে সভায় বার্ষিক প্রতিবেদনে আপসের পুরো পরিকল্পনা তুলে ধরেন সজল চক্রবর্তী। আপসের জন্য টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডকে নগদ ৫০ লাখ টাকা প্রদানের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সজল চক্রবর্তীর মামলা থেকে পিছু হটতে চাওয়ায় ষড়যন্ত্রের সে বিষয়টি যেন অনেকের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সমবায় ব্যাংকের নামে থাকা পূবালী ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয় হয় সমবায় ব্যাংকের। এ টাকা বিনিয়োগে খাটিয়ে লাভের পুরোটাই ভোগ করছেন সজল চক্রবর্তী। সংশ্লিষ্টদের সন্দেহ এখন লাভ নয় সে টাকারই একটি অংশ পুরোপুরি বুঝে নিতে সজল চক্রবর্তী টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটির সঙ্গে মিলে আপসের নাটক সাজিয়েছেন।

তবে আপসের অপেক্ষা না করেই আদালতে মামলা চলাকালীন সময়েই ভূমি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয় টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটি। সমবায় ব্যাংককে আপসের জন্য চাপে ফেলতেই এ বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে বলে সমবায় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা সন্দেহ করছেন।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys