Home জাতীয় মনে কষ্ট নিয়ে বীরপ্রতিক কাকন বিবি চিরনিদ্রায়, শোকের ছায়া

মনে কষ্ট নিয়ে বীরপ্রতিক কাকন বিবি চিরনিদ্রায়, শোকের ছায়া

by jonoterdak24
0 comment 70 views

 

 (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :মনে কষ্ট নিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা লক্ষীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা কাকন বিবি (নূর জাহান)।

বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লক্ষীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের মাঠে জানাজা ও দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় পুলিশের একটি দল কাকন বিবিকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপর নিজ বাড়ির উঠানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর ১টায় উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের ক্যাপ্টেন হেলাল-খসরু উচ্চ বিদ্যায়ল প্রাঙ্গণে তাঁর মরদেহ পৌঁছায়।

সে সময় কাঁকন বিবির মেয়ে সখিনা বিবি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, “সরকার বীরপ্রতীক খেতাব দিলেও তা গেজেটভুক্ত না হওয়ায় মায়ের মনে কষ্ট ছিল। বীরপ্রতীকের সুবিধাও তিনি পাননি। আমাদের দাবি মায়ের এ সুবিধাগুলো যেন আমরা পাই এবং দ্রুত গেজেটভুক্তির দাবিও জানাচ্ছি।”

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান, দোয়ারাবাজার উপজেলার চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীর প্রতিক, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মহুয়া মমতাজ, দোয়ারাবাজার উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালেহা বেগম, সহকারী পুলিশ সুপার দোলন মিয়া, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ খসরু, আব্দুল মজিদ বীর প্রতিক, আব্দুল হালিম বীর প্রতিক প্রমূখ। এ ছাড়াও উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ হাজারো মানুষ নামাজের জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শেষে কাকন বিবির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধ কমান্ড ইউনিট, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যানগণসহ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে দোয়ারাবাজার থেকে সিলেট নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে হাসপাতালের তৃতীয় তলার ১০ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। রাতে অবস্থার অবনতি হলে তার আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

অবশেষে বুধবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে তিন মাস বয়সী মেয়ে সখিনাকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যান কাঁকন বিবি। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুপ্তচরের কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। পাক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন এই বীর যোদ্ধা।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেন। তবে তার এ বীরপ্রতীক খেতাব এখনো গেজেটভুক্ত হয়নি।

এদিকে, স্বাধীনতার মাসে একজন খেতাবপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসছে।

Related Posts

Leave a Comment