Home সারাদেশ রায়পুরের সয়াবিনের বাম্পার ফলনে চাষীরা আনন্দিত

রায়পুরের সয়াবিনের বাম্পার ফলনে চাষীরা আনন্দিত

by jonoterdak24
0 comment

 

শাহাদাত হোসাইন সাদিক

রায়পুর (লক্ষীপুর) প্রতিনিধি ঃ
“আঁচলে মেঘনার মায়া, ডাকাতিয়ার বুকে- রহমত খালী বয়ে চলে মৃদু এঁকে বেঁকে। নারিকেল, সুপারী আর ধানে ভরপুর/ আমাদের আভাস ভূমি প্রিয় লক্ষীপুর। কে কখন ছড়াটি লিখেছিলেন জানা যায়নি তবে, নারিকেল, সুপারী, আর ধানের সঙ্গে যোগ হয়েছে সয়াবিন। মেঘনা উপকূলবর্তী ল²ীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে জেগে উঠা চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, চরকাছিয়া ও কানীবগার চরের কয়েক হাজার একর জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এবারও সয়াবিনের প্রচুর পরিমানে ফলন হয়েছে। এখানকার পাঁচটি বড় চরে এখন যতদূর চোখ যায় সয়াবিনের সবুজ চারা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। এতে দারুণ উচ্ছ¡সিত স্থানীয় কৃষকেরা। ধান ও নারিকেল-সুপারির পাশাপাশি চতুর্থ প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে রায়পুরে সয়াবিনের চাষাবাদ দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা ১৫ বছর আগে শুরু হয়।
বর্তমানে রায়পুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পাঁচটি চরে সয়াবিনের চাষ হয়। স্থানীয় কৃষকেরা মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, চরকাছিয়া ও কানিবগার চরের হাজার হাজার একর জমিতে সয়াবিন চাষ করছেন। এসব চরের মাটি দোআঁশ জাতীয় হওয়ায় একবার লাঙ্গল চালালেই তা সয়াবিন চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। লাভ ও ভালো হয়। সে জন্য কৃষকেরা দিন দিন সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসই হলো সয়াবিন আবাদের সবচেয়ে উপর্যুক্ত সময়। সয়াবিন খেতে খুব একটা সারও দিতে হয় না। আবার নিড়ানি দিয়ে আগাছাও পরিষ্কার করতে হয় না। গাছ বড় হলে এক-দুবার কীটনাশক দিলেই চলে, এই যা খরচ। সব মিলিয়ে চারা গজানোর ১২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে আসে।
কৃষি বিভাগ এবার রায়পুরে মোট সাড়ে ৭/৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তবে আবাদ হয় আরও ৩০ হেক্টর বেশি জমিতে। প্রতিবছর রায়পুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সয়াবিন কেনাবেচা হয়। এ জন্য এটিকে কৃষকেরা ‘সোনার ফসল’ বলে থাকেন। কৃষকেরা আগামী ১২ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে শুরু করবেন।
সয়াবিনকে কেন্দ্র করে উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজারের চেহারা গত ১৫ বছরে বদলে গেছে। ছোট এই বাজারটিতে ইতিমধ্যে সয়াবিনের চারটি চাতাল ও ৪০-৫০টি পাইকারি দোকান গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী খাসেরহাট ও মোল্লার হাটের আখন বাজার, হাজীমারায় ও আছে এমন ২০টি পাইকারি দোকান। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে উৎপাদিত মোট সয়াবিনের ৯০ শতাংশই বিপণন হয় এই বাজারে। হায়দরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী গাজিউর রহমান মিলন জানান, দেশের খ্যাতনামা সয়াবিন তেল ও পোলট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই এখান থেকে সয়াবিন সংগ্রহ করে থাকে। হায়দারগঞ্জেও একটি কারখানা গড়ে উঠেছে। সয়াবিনের তৈরী খাবার সয়াবিনে দানা অনেকে রান্না করে খায়, সয়াবিন থেকে তৈরী দুধ দিয়ে চা ছাড়াও মুখরোচক খাবার বানান যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির আহাম্মেদ বলেন, এই উপজেলায় ব্যাপক সয়াবিন উৎপাদিত হয়। আমাদের কাছে সয়াবিন দিন বদলের ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys