Home আন্তর্জাতিক সমৃদ্ধ দেশ গড়ে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করব-প্রধানমন্ত্রী

সমৃদ্ধ দেশ গড়ে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করব-প্রধানমন্ত্রী

by jonoterdak24
0 comment

জনতার ডাক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই দেশকে অবশ্যই উন্নত-সমৃদ্ধ করতে পারব। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা, অনেক কিছু মাথায় নিয়ে চলতে হয়, রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। এর উত্তরণ ঘটাতে হয়। তারপরও বিশ্বাস করি দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলে লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে পারব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আসলেই বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারব। এ বিশ্বাস আছে। তিনি বলেন, আরও অনেক দূর যেতে চাই। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হতে চাই। দেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, ক্ষুধায় কাতর থাকবে না, রোগে চিকিৎসা পাবে, প্রতিটি মানুষ শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবন পাবেÑ এটাই আমাদের লক্ষ্য।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য ১৫ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয় এ বছর। পুরস্কারজয়ী এবং তাদের প্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, পাদপ্রদীপের বাইরে থেকে যারা সমাজের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন, সরকার তাদের সম্মান জানাতে চায়। এখনো গ্রামবাংলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অনেকেই আছেন। তাদের খবর হয়তো আমরা পাই না। যে যেখানে যেভাবে সামাজিক উন্নয়নে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বা দেশের সাংস্কৃতিক জগতে, সাহিত্য জগতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছেন, আমরা যেন তাদের সম্মান করতে পারি।

ওইসব গুণী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া প্রত্যাশার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সে তথ্যগুলো আমাদের জানা একান্তভাবে দরকার। আগামীতে সে তথ্য আমরা আরও পাব। তারা যে দেশের জন্য অবদান রাখলেন, জাতির জন্য অবদান রাখলেন, জাতির জন্য একটা পথিকৃৎ সৃষ্টি করে গেলেন, আমরা সেই স্বীকৃতিটা দিয়ে যেতে চাই।

বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নির্যাতিত নারী এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির সার্বিক উন্নয়নে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদের সম্মানিত করলে আগামী প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জন্য অবদান রেখেছেন, তারা তাদের জীবনকে দেশমাতৃকার জন্য উৎসর্গ করেছেন, সব সময় তারা আমাদের জন্য বরেণ্য।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করা হয়। একটি দেশে যদি ১৯টি ক্যু হয়, প্রতিনিয়ত যদি এই হত্যাকা- চলে আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা চলে; সে দেশ কখনই আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নতি লাভ করতে পারে না বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্মানজনক অবস্থানে যেতে পারে না।

দেশের উন্নয়নে পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা সেটা ঘোষণা দিয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। আমাদের গৃহীত সামাজিক কর্মকা-ের ফলে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।

স্বাধীনতা পদক ২০১৬ পেলেন যারা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে এবং জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ ১৫ জন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে এ বছর ভূষিত করা হয় স্বাধীনতা পুরস্কারে। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সংগঠক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে এই পদক দেওয়া হয় এবার। মন্ত্রিসভার আরেক সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালে ভারতের মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প, অপারেশন ক্যাম্প ও শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক মরহুম মৌলভী আচমত আলী খান। তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক নেন আচমত আলীর সন্তান নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

সুপারসনিক এয়ারক্রাফট এফ ৬-এর পাইলট এবং মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স গঠন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার বদরুল আলম বীরউত্তমও পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন বদরুল আলম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৬টি অপারেশন পরিচালনা করেন। সম্মাননা পেয়েছেন ১৯৭১ সালে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক রাজশাহী পুলিশ লাইনস আক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ ফোর্স সংগঠনে নেতৃত্বদানকারী শহীদ শাহ আব্দুল মজিদ। তার পক্ষে পদক নেন তার ছেলে মামুন মাহমুদ শাহ।

রাঙামাটিতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নেতৃত্বদানের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শাহাদাতবরণকারী রাঙামাটির তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম আবদুল আলীও এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার কন্যা নাজমা আক্তার লিলির হাতে স্বাধীনতা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান হাইকমিশন, লন্ডনে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান নিজের হাতে লিখেছিলেন যিনি, সেই এ কে এম আবদুর রউফও স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। প্রয়াত চিত্রশিল্পী রউফের পক্ষে তার স্ত্রী শাহান আরা রউফ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পদক নেন। ১৯৭১ সালে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত থাকাকালে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রথম মিশন স্থাপনকারী কে এম শিহাব উদ্দিন মরণোত্তর এ পুরস্কার পেয়েছেন। তার ভাই কে এম ফরিদ উদ্দিন অনুষ্ঠানে পদক গ্রহণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার পক্ষে সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার এবার সৈয়দ হাসান ইমামকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মরহুম রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন মাতৃভাষা ক্ষেত্রে। প্রয়াত রফিকুল ইসলামের পক্ষে তার স্ত্রী দিলরাজ বুলি ইসলাম পুরস্কার গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন পাটের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করে সাড়া ফেলে দেওয়া বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম। তোষা ও দেশি পাটের জীবন-রহস্য আবিষ্কারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তার এই মরণোত্তর পুরস্কার। প্রয়াত মাকসুদুলের পক্ষে তার স্ত্রী রাফিয়া হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ পদক নেন। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রফি খান (এম আর খান) চিকিৎসা বিদ্যায় এবার এ পুরস্কার পেয়েছেন।

সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রতিবাদে ১৯৭৭ সালে প্রথম কবিতার রচয়িতা। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এবং রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দেশের জলসীমায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবারের স্বাধীনতা পদক পেয়েছে। ১৯৭১ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করেন।

পুরস্কারজয়ী প্রত্যেকে পেয়েছেন একটি করে স্বর্ণপদক, সনদ এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে দুই লাখ টাকার চেক।7

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys