Home রাজনীতি সিলেটে “আমজনতা বাংলাদেশ” এর স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন

সিলেটে “আমজনতা বাংলাদেশ” এর স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন

by jonoterdak24
0 comment

সিলেট  :: সিলেটে “আমজনতা বাংলাদেশ” নামের একটি সংগঠন ১৪ই ফেব্র“য়ারীকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার “স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস” উপলক্ষে দুপুর ১২টায় সংগঠনের সুরমা টাওয়ার কার্যালয়ে আমজনতা বাংলাদেশ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় আমজনতা বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সমন্নয়ক কামরুল হাসান জূলহাস এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সিলেট জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন সায়মন এর পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন ভেলেনটাইন্স ডে অর্থাৎ বিশ্বভালবাসা দিবস আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আমাদের ইতিহাস থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম ১৪ই ফেব্র“য়ারীকে জানে বিশ্বভালবাসা দিবস হিসেবে অথচ বাঙ্গালীর কাছে এইদিনটি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস। সময়ের স্রোতে মানুষ অনেক কিছু বিস্মৃত হয়। তাই বলে নিকট অতীতের এত বড় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন বাংলাদেশের মানুষ ভুলে গেল কীভাবে? ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারী তৎকালীন এরশাদ সরকারের মজিদ খান শিক্ষানীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন ১১ জন আন্দোলনকারী। গ্রেপ্তার হন ১৩৩১ জন।
আমজনতা বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সমন্নয়ক কামরুল হাসান জুলহাস বলেন ‘ভালোবাসা দিবসে বিশ্বের সব দেশের মানুষ একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, দিবসটি উদযাপন করবে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে নিজের ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারী যে বড় অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল তার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সবাইকে জানাতে হবে। ইতিহাসকে জেনে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে ভালোবাসা দিবসের গভীর তাৎপর্য অনুধাবন করা যাবে।’তিনি আরও বলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের মানুষকে অবশ্যই ইতিহাসমুখী হতে হবে। ইতিহাস সচেতন না হলে জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথচলা কখনোই মসৃণ হবে না।’ ‘ইতিহাস শুধুমাত্র মানুষকে অনুপ্রাণিত করে না, অতীতের অনেক ভুল ত্রুটি থেকে মানুষ শিক্ষা নিতে পারে। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারীর বেদনাময় ইতিহাস জাতিকে ভুলে গেলে চলবে না।’
‘শিক্ষাব্যবস্থা, গণমাধ্যম আর রাজনীতিতে পুঁজিপতি আর মুনাফালোভীদের আধিপত্য বাড়ার সাথে সাথে সময়ের আবর্তনে দেশের মানুষ ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারির ইতিহাসকে ভুলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘১৪ ফেব্র“য়ারী এদেশের ছাত্র-জনতার লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়। ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন এগিয়ে দিয়েছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণের সংগ্রামকে। কিন্তু মধ্য ফেব্র“য়ারির সেই ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে আমদানি করা হয়েছে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবসের মতো আয়োজন।’ ইতিহাসের এই কালো দিবসকে জাতি কি মনে রেখেছে? ১৪ ফেব্র“য়ারিকে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম জানে শুধু ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবেই। নতুন প্রজন্ম কি জানে ১৪ ফেব্র“য়ারির ভালোবাসা দিবসকে জনপ্রিয় করা হয়েছে ছাত্র-ছাত্রী হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে।

উল্লেখ্য ১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ, এরশাদ সরকার গঠনের দুদিন পরই ছাত্ররা সাভারে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে গিয়ে সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী স্লোগান দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেনানিবাস থেকে সৈন্যবাহিনী ছুটে এসে ছাত্রদের উপর নির্মম নির্যাতন চালায়। ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ নির্বিচার লাঠিচার্জ করে। এর প্রতিবাদে ১৪টি ছাত্র সংগঠন মিলে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলে আন্দোলনের দৃঢ় শপথ নেয়। এই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারেই ১৪ ফেব্র“য়ারি কুখ্যাত মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে কলাভবনে বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে সচিবালয় অভিমুখে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কার্জন হল ও শিক্ষাভবনের সামনে পৌঁছানো মাত্রই পুলিশ গুলি ছোঁড়ে। গুলিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে জাফর-জয়নাল-দিপালী সাহা। সর্বমোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। যদিও সরকারি হিসাবে বলা হয় মৃতের সংখ্যা মাত্র একজন। গ্রেপ্তার-নির্যাতন সীমা ছাড়িয়ে যায়। সরকারি হিসাবেই গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ১৩৩১ জন। যদিও বাস্তব পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ।
১৪ ফেব্র“য়ারি শহীদ ছাত্রদের মরদেহ জানাজার জন্য অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে রাখা হলে সেখানেও হামলা চালায় পুলিশ। ছত্রভঙ্গ হয়ে ছুটে যায় ছাত্ররা। প্রাণহীন শহীদদের লাশ সূর্যসেন হল পর্যন্ত বয়ে নিয়ে গেলে হলের গেট ভেঙ্গে যৌথবাহিনী ছিনিয়ে নেয় লাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কর্মচারীদের রুমে ঢুকে তাদের ওপর নিপীড়ন চালায় যৌথবাহিনী। এ খবর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এ আন্দোলনে যোগ দেয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৮ ফেব্র“য়ারি প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয় স্বৈরাচারী সামরিক সরকার।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys