Home সিলেট বিভাগ সিলেটে সর্বত্র গোয়েন্দা নজরদারি’

সিলেটে সর্বত্র গোয়েন্দা নজরদারি’

by jonoterdak24
1 comment

জনতার ডাক:জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত হয়ে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়া তরুণদের বিভিন্ন মেসে অবস্থানের খবর পাওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে সারা দেশের মেসগুলোয়। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের ‘মেসপাড়া’য়ও চলছে নজরদারি। মেস ও বাসা-বাড়ির ভাড়াটিয়াদের সবধরণের তথ্য সংগ্রহ করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু তাই নয় গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার পর থেকে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জনবহুল এলাকা, মসজিদ-মন্দির, শাহজালাল, শাহপরান (র.)সহ সকল মাজার, ইসকন মন্দির, পুরোহিতদের, রোজভিউ ও নাজিমগরসহ সকল অভিজাত হোটেল ও রিসোর্স, দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টস্থ পদ্মা ও যমুনা অয়েল ডিপোসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি’তে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। এছাড়াও চালকসহ তিনজন বহনকারী মোটর সাইকেল চলাচলে কঠোর নজরদারি রয়েছে।

কোন মেসে বা বাসা-বাড়িতে কারা কি পরিচয়ে উঠছেন তা খতিয়ে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাসা-বাড়ির মালিকদের প্রতি মেস ও বাসায় অবস্থান করা ভাড়াটিয়াদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। “একই সঙ্গে মেসে অবস্থানকারীদের পরিবারের সদস্যদের কারও ‘রেফারেন্স’ সংগ্রহ করে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।” চলতি সপ্তাহে পুলিশ সদর দফতর থেকে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও সকল মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন ইউনিট প্রধানদের কাছে এরকম একটি লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার জুমা’য়ার নামাজ শেষে সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন মসজিদে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এই লিফলেটে বাসা-বাড়ির মালিকদের ভাড়াটিয়া সম্পর্কে এবং পিতা-মাতাদের সন্তান সম্পর্কে সচেতনতা মূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবারও মেট্টোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে এ লিফলেট বিতরণ করা হয়, পাশাপাশি জঙ্গি বিরোধি সচেতনতায় মাইকিংও করা হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলায় জড়িতদের অনেকেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরের জেলা ও বিভাগীয় শহরের মেসে মিথ্যে পরিচয়ে অবস্থান করেছিলো। তাদের ধারণা, জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত নিখোঁজ তরুণরাও দেশের কোথাও না কোথাও মেসে অবস্থান করছে। যেহেতু তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন তাই মেসে অবস্থান করাটাই স্বাভাবিক। এ কারণে সিলেটের মেসগুলোতেও নজরদারিতে ‘বিশেষ’ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) রহমতউল্লাহ উত্তরপূর্বকে বলেন- জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত ও ধরতে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। মেসগুলোতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া, জনবহুল এলাকাগুলোও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। অপরিচিত কেউ কোনও মেসে উঠলেই তার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিতে বলা হয়েছে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করে থাকে। এমনকি বিভিন্ন পেশায় যোগদান করে নিজেদের আসল পরিচয় আড়াল করে আত্মগোপনে থেকে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে যায়। আগে ঘনবসতি ও নিম্নবিত্তরা থাকেন এমন এলাকায় জঙ্গিরা আত্মগোপনে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানেরাও জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তারা অভিজাত এলাকায় মেস বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে জঙ্গি সদস্যরা নারী সদস্যদের নিয়ে পরিবার বানিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জঙ্গিদের যে আস্তানা পাওয়া গেছে সেখানে প্রথমে একটি পরিবার উঠেছিলো। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিরা গিয়ে যোগ দেয়। এইভাবে অবস্থান করে জনবহুল এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে টার্গেট করে হামলা করে। এ লক্ষে সিলেটের জনবহুল এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এডিসি ইকবাল হুসাইন উত্তরপূর্বকে বলেন- গুলশান ও শোলাকিয়ার জঙ্গি হামলার পর থেকেই সিলেটেরে এলাকা জনবহুল এলাকা, মসজিদ-মন্দির, শাহজালাল, শাহপরান (র.)সহ সকল মাজার, ইসকন মন্দির, পুরোহিতদের, রোজভিউসহ সকল অভিজাত হোটেল, নাজিমগরসহ সকল রিসোর্স, নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টস্থ পদ্মা ও যমুনা অয়েল ডিপোসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। এছাড়াও চালকসহ তিনজন বহনকারী মোটর সাইকেল চলাচলে কঠোর নজরদারি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাও ঢাকার বাইরে জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি আস্তানা খুঁজে বের করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসব আস্তানার প্রত্যেকটিই জঙ্গিরা ছাত্র বা কর্মজীবী পরিচয়ে মেস হিসেবে ভাড়া নিয়েছিলো। পরে সেখানে সহযোগীদের নিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও গোলা-বারুদ মজুদ এবং বোমা তৈরির কারখানা বানায়। গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মেস থেকে একাধিক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এসব আস্তানা প্রথমে মেস হিসেবে ভাড়া নেওয়া হয়েছিলো।

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের নগর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) এডিসি রবিউল ইসলাম জানান- সিলেট নগরীর প্রতিটি এলাকার মেস ও বাসা-বাড়ির ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর করা হচ্ছে। প্রতিটি থানা এলাকার বিভিন্ন বিট পুলিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা মেস-বাসায় গিয়ে গিয়ে খোঁজ-খবর ও সন্দেহভাজনদের নজরদারি করবেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মেস হিসেবে কোনও বাসা ভাড়া দিলেও সেই বাসায় নিয়মিত বাড়ির মালিককে পরিদর্শনসহ সব ধরনের খোঁজ-খবর রাখতে বলা হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, যেসব এলাকায় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেসব এলাকায় মেস হিসেবে বাসা ভাড়া দেওয়া হয় বেশি। একারণে এসব এলাকাকে টার্গেট করে থাকে জঙ্গি সদস্যরা। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে থাকে তারা।

সূত্র জানায়, জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে যারা স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছে, তাদের বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন এলাকার ভেতরেই আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের মেসে থাকা ছাড়া বিকল্প উপায় নেই। একারণে সিলেটের মেসগুলো সঠিকভাবে নজরদারিতে রাখলে কোনো জঙ্গি সদস্য থাকলে ধরা যাবে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-৯’র মিডিয়া অফিসার এএসপি মাঈন উদ্দীন চৌধুরী  বলেন- জঙ্গিরা মেস হিসেবে ভাড়া নিয়ে আস্তানা গড়ে তুলছে। একারণে আমরা মেস বাসাগুলোতে সারা দেশের ন্যায় বাড়তি নজরদারি করছি।

Related Posts

1 comment

GPA Calculator May 6, 2017 - 1:31 pm

Good post. I learn something new and challenging on websites I stumbleupon every day.
It will always be interesting to read through content from other authors
and use a little something from other sites.

Reply

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys