Home সিলেট বিভাগ সিলেট আখালিয়ায় শুরু হয়েছে টিলা কাটা উৎসব: প্রশাসন নিরব

সিলেট আখালিয়ায় শুরু হয়েছে টিলা কাটা উৎসব: প্রশাসন নিরব

by jonoterdak24
1 comment

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট নগরীর আখালিয়া ধামালীপাড়া এলাকায় যেন শুরু হয়েছে টিলা কাটা উৎসব। টিলা কেটে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছেই বটে তার সাথে তৈরি করা হচ্ছে আবাসন প্রকল্প। এরই মধ্যে কয়েকশ’ একর টিলা কেটে সাফ করা হয়েছে। যেগুলো বাকি আছে সেগুলোও কেটে ফেলার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে, সেগুলো কেটে ফেলার জন্য নানান কৌশল উদঘাটন করছে ভূমিদস্যুরা।

প্রাকৃতিক ছায়াঘেরা বৃহত্তর আখালিয়া এলাকার আগের চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। আখালিয়া এলাকায় এখন আর বাঘ-শিয়ালের ডাক শোনা যায় না, ধরা যায় না বনমোরগ। এখন তাকালেই দেখা যায় ন্যাড়া মাথার মতো লাল মাটি। টিলা কেটে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য আবাসন প্রকল্প। সরেজমিন আখালিয়া ধামালীপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আবাসন এলাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে নতুন নতুন রাস্তা। টিলার মাটি কেটে সেখানে তৈরি করা হয়েছে প্লট, বাসা, বাড়ি সহ নানান হাউজিং প্রকল্প।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আশিক আলী জানান, এক সময় তারা ওই টিলায় বনমোরগ শিকার করতেন। ১৯৮০ সালের দিকে গরুর ফার্ম নামের একটি কোম্পানি টিলা কেটে এখান আবাসিক এলাকা গড়ে তোলে। প্রায় ২০ একর জমির ওই টিলার গাছপালা কেটে উজাড় করার পর প্লট তৈরি করে বিক্রি করা হয়। ধামালীপাড়া আবাসিক এলাকায় শত শত ভবন তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে সিলেটজুড়ে যেভাবে টিলা ও পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে তাতে মনে হয় আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে সিলেটকে টিলামুক্ত করে ফেলবে ভুমিদস্যুরা, অতীতে এরকম আর কাটা হয়নি।

মঙ্গলবারে নগরীর আখালিয়া বড়বাড়ী টিলায় গিয়ে দেখা যায়, এখন আর আগের মতো টিলা নেই। টিলা কেটে তৈরি হয়েছে বাসাবাড়ি। এখনও বেশ কিছু টিলা বেঁচে আছে ক্ষত নিয়ে। কিছু কিছু টিলার অবস্থা ভালো থাকলেও সেগুলোও গিলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কৌশলে টিলার পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে খুপড়ি ঘর। সামান্য টাকায় এসব ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে স্বল্প আয়ের মানুষজন।

এরপর কৌশল হিসেবে সংস্কারের নামে টিলা কাটা শুরু হয়। সংস্কারে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য মালিকরা যান পরিবেশ অধিদফতরে। সেখানে গিয়ে টিলার মাটি ধসে পড়ছে, সংস্কার করতে হবে এমন আবেদন জানান তারা। এরপর কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই পরিবেশ অধিদফতর সংস্কারের অনুমতি নেই। ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়নে ঘর তৈরীর জন্য অনুমতি নিয়ে ধীরে ধীরে কেটে নেন টিলা। এভাবে টিলা কেটে সাবাড় করা হলেও এই কৌশল এখনও অব্যাহত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আখালিয়া ধামালীপাড়া মুরব্বী জানান, এসব টিলা কাটার বিষয়টি এলাকাবাসী একাধিকবার প্রশাসনের নজরে দিয়েছেন। পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে প্রকাশ্যেই টিলা কাটা হয়েছে।

এদিকে টিলার মালিক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়র অফিস থেকে ঘর তৈরী জন্য অনুমোদন নেওয়া হয়েছে এবং সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিলেট জেলা প্রশাসক‘র কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

এদিকে, আখালিয়া বড় বাড়ী, ধামালীপাড়া এলাকার টিলা কেটে গড়ে উঠেছে হাউজিং প্রকল্প। এখনও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নগরীকে পাহাড়-টিলাশূন্য করতে কৌশলে কাজ করছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা জানান, সিলেটের টিলা কাটা বন্ধে তারা অনেকবার পরিবেশ অধিদফতর, সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যরত ব্যক্তিদের চিঠি দিয়েছেন তিনি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার ওসির সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সিলেট পরিবেশ অদিদপ্তর অথবা কোন ব্যক্তি অভিযোগ দিতে হবে তাহলে পুলিশের পক্ষে থেকে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Related Posts

1 comment

Viagra Online May 5, 2017 - 11:37 am

Hello! Cool post, amazing!!!

Reply

Leave a Comment