Home সিলেট বিভাগ সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক নেই!

সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক নেই!

by jonoterdak24
0 comment

অতিথি প্রতিবেদক নিউজ: প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক নেই। নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পাশে দক্ষিণ সুরমা পারাইরচক নাম স্থানে এ ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক না থাকলেও সড়কের উপর যত্রতত্র ট্রাক দাঁড় করে যানজট ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সিসিক-এর কাছ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৪ লক্ষ ৬ হাজার টাকা বিনিময়ে এক বছরের জন্য ট্রাক টার্মিনালটির ইজারা গ্রহণ করেছে সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ। ইজারাদার সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলোকে টার্মিনালে রাখার জন্য ট্রাক শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানালেও রহস্যজনক কারণে বেআইনীভাবে ট্রাকগুলো টার্মিনালে না গিয়ে সড়কের উপর যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফলে ইজারা গ্রহিতা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।।

সরেজমিনে সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৭/৮টি ট্রাক টার্মিনালে রয়েছে। অথচ দক্ষিণ সুরমা বিভিন্ন সড়কে শতাধিক ট্রাক পার্কিং করা অবস্থায় দেখা যায়।
বিগত ২০১৩ সালে ২৩ নভেম্বর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে গত ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ মান্নান সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের উদ্বোধন করেন।

ইজারা গ্রহিতা সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ গত ১ অক্টোবর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে ট্রাক টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝে নেন। ইজারাদার অভিযোগ করেন সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকারের প্রতিবন্ধকতার কারণে ট্রাকগুলো টার্মিনালে পার্কিং না করে সড়কের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পার্কিং করছে। ইজারাদার বার বার ট্রাকগুলো টার্মিনালে পার্কিং করার আহবান জানালেও আবু সরকারের অসহযোগিতার কারণে ইজারাদার টোল আদায় থেকে বঞ্চিত হওয়ার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অপরদিকে, যানজট মুক্ত নগরী রাখার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

ইজারা গ্রহণের পর থেকে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের সাথে কথা কাটাকাটির অজুহাতকে কেন্দ্র আবু সরকারের নেতৃত্বে ট্রাক রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে অবরোধ করার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়। কিছু দিন পর পর এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রাক টার্মিনালের ইজারা টেন্ডারের আবু সরকারের পছন্দের লোক টেন্ডার জমা দেয়। কিন্তু সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ দরপত্রে বেশি টাকা দেয়ার কারণে তারা ইজারা লাভ করে। আর এ কারণে আবু সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে ইজারা গ্রহিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বিষয়টি মিমাংসারের উদ্দেশ্যে ইজারাদারের সাথে প্রতি ট্রাকের টোল ১৫০ টাকা থেকে ৫০ টাকা আবু সরকারকে প্রদানের মাধ্যমে সমঝোতা হয়। এই ৫০ টাকা থেকে ২৫ টাকা আবু সরকার পাবে এবং বাকি ২৫ টাকা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের তহবিল জমা হবে। কিন্তু পুরো ৫০ টাকায় আবু সরকারের ‘পকেটে’ যাওয়ার কারণে ট্রাক শ্রমিকদের সাথে আবু সরকারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ট্রাক টার্মিনালে আসছে না।

জানা যায়, আবু সরকারের লোকজন সিলেট নগরী ও জেলার মোট ১৭টি স্থান থেকে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয় রেজিঃ চট্ট-২১৫৯ এর নামে স্বাক্ষরবিহীন রসিদের মাধ্যমে আহত ও বৃদ্ধ শ্রমিকদের সাহায্যের কথা উল্লেখ করে ৫০ টাকা ও ইউনিয়নের তহবিল বাবদ ২০ টাকা এবং সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নামে ৩০ টাকা আদায় করে। ৩টি রসিদে মোট ১০০ টাকা আদায় করে। এছাড়াও ট্রাকে অভারলোড এর কথা বলে রসিদবিহীন ৪/৫ শত টাকা করে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ গত ২৪ অক্টোবর সিলেটের জেলা প্রশাসক ও ২৩ অক্টোবর সিলেটের পুলিশ কমিশনার বরাবরে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় বন্ধর দাবীতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ট্রাক টার্মিনালের ইজারা গ্রহণের পূর্বে প্রায় ৬/৭ মাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার সিটি কর্পোরেশনকে কোন রাজস্ব না দিয়ে টার্মিনালের নাম ব্যবহার করে টার্মিনাল থেকে এবং পারাইরচক মোড় থেকে টার্মিনালের টোল আদায় করেন। ইজারা গ্রহণের পর একই নিয়মে ইজারা গ্রহিতা টোল আদায় করে। কিন্তু ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ অযথা অন্যায় ভাবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যাতে ইজারা গ্রহিতা সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত ট্রাক প্রতি টোল আদায় করতে না পারে।

বর্তমানে কিছু শ্রমিক নামধারী চাঁদাবাজ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেমন দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার পয়েন্ট, পারাইচকস্থ সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসের সামনে, জৈন্তাপুর শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসের সামনে, ফতেহপুর, পরগনা বাজার সহ শ্রমিক ইউনিয়নের যতগুলো শাখা কমিটি রয়েছে প্রতিটি শাখা কমিটি কর্তৃক বিভিন্ন হারে অসহায় ভাতা, কল্যাণ ভাতা বলে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে। তাছাড়াও ট্রাকের ওভারলোড কথা বলে প্রতি গাড়ী থেকে ৪/৫ শত টাকা অবৈধভাবে আদায় করে। যদিও ওভারলোড সংক্রান্ত বিষয়টি দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের।

ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের এ ধরণের কর্মকান্ডের কারণে পণ্য পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই শ্রমিক নামধারী এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, আবু সরকারের অসহযোগিতার কারণে টার্মিনালের ইজারাদার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা কামনা করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমার শ্রমিকরা সরকারি বিধি মোতাবেক চাঁদা আদায় করে। কোন অবৈধ চাঁদা আদায় করে না। ট্রাক টামির্নালের ইজারাদারের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। টার্মিনালে ট্রাক প্রবেশ তিনি কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন না বলেও জানান।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys