Home সিলেট বিভাগ সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর টু জাফলং পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগী, সংস্কারে নামে হরিলুট

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর টু জাফলং পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগী, সংস্কারে নামে হরিলুট

by jonoterdak24
0 comment

 

 

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি-:
সিলেট জেলার সর্বাধিক ব্যস্ততম মহাসড়ক সিলেট-তামাবিল। বিগত ২০০০সালে কুয়েত সরকারের অর্থায়নে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে বর্ধিত করে। এরপর ২০১৬ সন হতে ২০১৮সন পর্যন্ত সওজ কর্তৃপক্ষ রাস্তাটির দেখবাল করছে। সংস্কার কাজের জন্য বিভিন্ন সময় কর্তৃপক্ষ বরাদ্ধ নিয়ে নিম্নমানের মরা পাথর, পচা ইট, মাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহার করে দায়সারা ভাবে সংস্কার কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে কাজের ১মাসের মাথায় পুনরায় বড় বড় গর্ত ধারন করে সড়কটি। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিভিন্ন সময় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারে স্থায়ী কোন উদ্যোগ গ্রহন করেছে না।

 


সরেজমিনে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বটেশ্বর হতে জাফলং পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায় বড় বড় গর্ত সহ কয়েক হাজার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকা গুলোতে মাত্রাতিরিক্ত পরিস্থিতি ধারন করেছে। রাস্তার বালু পাথার উড়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা দূর্ঘটনা সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র গতিতে যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তার ধুলো বালু উড়ে গিয়ে হোটেল রেস্তুরা গুলোতে প্রবেশ করছে। শুধু তাই নয় এরাস্তা দিয়ে দেশী বিদেশী হাজার হাজার পর্যটরা চলাচল করতে হয়ে মূখে কাপড় বেঁধে। অপরদিকে ধুলো বালু মিশ্রিত খাবার খেয়ে বাজারে আগত লোকজন পরিবেশ বাহি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের দাবীতে এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করেও কোন প্রতিকার পচ্ছে না। সান্তনা দিয়েই তাদের রাস্তা হতে আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের নিকট হতে তোমন কোন কাজের আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের শুক্রবারী বাজার, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, হরিপুর বাজার, বাগেরসড়ক, দামড়ী, ফরফরা, সারীঘাট দক্ষিণ বাজার, ফেরীঘাট ব্রিজ, ইমরান আহমদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ গেইট, জৈন্তাপুর বাজার, চাঙ্গীল বাজার, কদমখাল, রাংপানী, ৪নং বাংলাবাজার, আসামপাড়া, আদর্শগ্রাম, শ্রীপুর, আলুবাগান, মোকামবাড়ী, জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সম্মুখ, নলজুরী বাজার, বিজিবি সম্মেলন কেন্দ্র, তামাবিল, মামার দোকান, বল্লাঘাট এলাকায় রয়েছে কয়েকটি পুকুর সমান গর্ত, এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ছোট ছোট কয়েক স্রহসাধীক গর্ত। এদিকে জৈন্তাপুর হতে বল্লাঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৬কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগে ২ঘন্টার অধিক সময়। ফলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারন, দেশী-বিদেশী পর্যটক, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদেরকে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সহ স্থানীয় সংসদ নিজ এলাকায় আসা যাওয়া করলেও রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহন করছেন না। স্থানীয় এলাকাবাসী- মরতুজ আলী, হুমায়ুন রশিদ, গোলাম মোস্তফা, আব্দুর রহমান, আব্দুর রকিব, হারিছ আলী, ইব্রাহীম আলী, মোবারক আলী, এরশাদ মিয়া, জয়দোল হোসেন, আব্দুল মান্নান, ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, জালাল উদ্দিন, বশির উদ্দিন, আবুল হোসেন, নজির আলী, আলী হোসেন সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শতাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে তারা ক্ষোভের সাথে জানান- সিলেট-তামাবিল সড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে বা মহাসড়ক নহে, এটি গ্রামীন সড়ক হিসাবে সবার কাছ চিহ্নিত হয়েছে। তাদের দাবী রাস্তা দিয়ে লোকজন কিংবা মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি চলাচল করে থাকলেও রাস্তাটির বেহাল দশা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতেন। কয়েক মাস আগে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারলাম জৈন্তাপুর হতে জাফলং পর্যন্ত ১শত ৯০কোটি টাকার সংস্কার প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এপর্যন্ত রাস্তাটি ব্যবহারকারীরা রাস্তা সংস্কারের দৃশ্যমান কোন কাজ শুরু করেত দেখা যায়নি। এদিকে বৃষ্টি হলে এসব স্থানে কাঁদায় পরিপূর্ণ আর রোদ্রের দিনে ধুলো ঝড়ে পরিনত হচ্ছে এমনটাই ভোক্তভোগীদের মন্তব্য করেন।
অপরদিকে সওজ কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারের নামে মঝে মধ্যে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে যৎ সামান্য নিম্ন-মানের সমগ্রী ব্যবহার করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সড়ক সংস্কারের সরকারের নিকট হতে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করে তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে।
এবিষয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর শাখা প্রকৌশলী মাসুম আহমদ জানান- ২৪এপ্রিল জৈন্তাপুর হতে মামার দোকান ও হরিপুর বাজার এবং শুক্রবারী বাজার রাস্তার কাজের জন্য ১শত ৩৮কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। তাড়াতাড়ী টেন্ডারটি মাধ্যমে এসব স্থানে সি.সি ঢালাইয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া সিলেট-জৈন্তাপুর পর্যন্ত রাস্তার মধ্যের গর্ত সমুহ ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম জানান- রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর মৌখিক ও লিখিত ভাবে বিষয়টি উত্তাপন করা হয়েছে। একনেকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পূর্ণকাজের প্রস্তাব পাশ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাস্তাটির উন্নয়ন কজের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
এব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান- রাস্তার বিষয়ে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন না করায় এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আশারাখি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাস্তাটি সংস্কারের ব্যপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

 

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys