Home বিনোদন জাফলং বেড়ানোর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে উপযোগী

জাফলং বেড়ানোর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে উপযোগী

by jonoterdak24
0 comment
জসিম উদ্দিন:প্রকৃতিকন্যা জাফলং বেড়ানোর জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে যে কেউ বেছে নিতে পারেন প্রকৃতির রূপসীকন্যা জাফলংকে । সুদৃশ্য পাহাড়চূড়া, স্বচ্ছ জলরাশি আর নানান রঙের নুড়িপাথরের এক অপূর্ব সমন্বয় সিলেটের জাফলং। নগর সভ্যতার যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে জীবন এখানে এসে মাথা লুকোয় একটু শান্তির খোঁজে। প্রকৃতির মায়াবী পরশে আনন্দে নেচে ওঠে মন। তাই আনন্দকে পরিপূর্ণ করে তুলতে যে কেউ আসতে পারেন পাহাড়, পানি ও পাথরভরা রূপকথার রাজ্য জাফলংয়ে। প্রকৃতিকন্যা হিসেবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং ।

খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সোন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড়-টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ের গহীন অরণ্য ও প্রকৃতির সুনসান নীরবতা পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। তাই যান্ত্রিক সভ্যতার সব ব্যস্ততা ভুলে গিয়ে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও প্রকৃতির সানি্নধ্যে নিজেকে সঁপে দিতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে।
প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও বিউটি স্পট, পিকনিক স্পট, সৌন্দর্যের রানীসহ বাহারি নামে পর্যটকদের কাছে পরিচিত জাফলং। ভ্রমণ পিয়াসীদের কাছে জাফলংয়ের আকর্ষণ যেন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই সিলেট ভ্রমণে এলে জাফলং না গেলে ভ্রমণই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।
সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলংয়ের অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মৌসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলং এর রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে ওঠে। ধূলিধূসরিত পরিবেশ হয়ে ওঠে স্বচ্ছ। সি্নগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নিঃশ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মতো মেঘরাজির বিচরণ এবং যখনতখন অঝোরধারায় বৃষ্টি পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদসংকুল- সে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট ওপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়।
তবে জাফলং বেড়াতে আসা পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে যে, কোনোভাবেই সাঁতার না জানলে পানিতে নেমে গোসল করা যাবে না। প্রতি বছরই দেখা যায় পিয়াইন নদীতে গোসল করতে গিয়ে সাঁতার না জানা পর্যটকরা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় পড়েছেন। তাই এ বিষয়ে সব পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে।
সিলেট জেলা সদর হতে সড়ক পথে জাফলংয়ের দূরত্ব ৫৬ কিলোমিটার। সিলেট থেকে বাস, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা বা লেগুনায় যেতে হয় জাফলং। এজন্য ১.৩০ ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
জাফলংয়ে থাকার তেমন সুব্যবস্থা নেই। উল্লেখ করার মধ্যে রয়েছে জেলা পরিষদের ললজুরী রেস্টহাউস (পূর্ব অনুমতি নিতে হবে), শ্রীপুর পিকনিক স্পট, শ্রীপুর বাংলো। এছাড়া জাফলংয়ে থাকার জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন সাধারণ মানের স্থানীয় কয়েকটি হোটেল রয়েছে।
এছাড়া জাফলং যাওয়ার পথে আপনি এক পলক ঢুঁ মেরে যেতে পারেন স্বচ্ছ নীল জলরাশির অপূর্ব সমারোহ লালাখালে। স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর দুধারের অপরূপ সৌন্দয। দীর্ঘ নৌপথ ভ্রমণের সাধ যেকোনো পর্যটকের কাছে এক দুর্লভ আকর্ষণ। তেমনি এক নির্জন মনকাড়া স্থান লালাখাল। জাফলং যাওয়ার পথে জৈন্তাপুর উপজেলার সারিঘাটের সনি্নকটেই অবস্থিত লালাখাল।
সারিঘাট থেকে ভারতের চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন হওয়া সারি নদীর স্বচ্ছ নীল জলরাশির ওপর দিয়ে নৌকা অথবা স্পিডবোট করে যেতে পারেন লালাখাল। যাওয়ার পথে নীল জলরাশি আর দুধারের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে দু’চোখে পলক ফেলতে মন চাইবে না। ৪৫ মিনিটের নৌকা ভ্রমণ শেষে আপনি পেঁৗছে যাবেন এমন এক জায়গায় যেখানে আপনার একপাশে থাকবে নীল জলরাশি আর এক পাশে পাহাড়ি চা বাগানের সবুজের সমারোহ। মুগ্ধ দৃষ্টিতে স্বচ্ছ নীল জলরাশি দিকে তাকালে আপনি দেখতে পারেন নদীর তলদেশের অপরূপ দৃশ্য।

Related Posts

Leave a Comment


cheap jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap jerseys from chinacheap mlb jerseyscheap nhl jerseyscheap jerseyscheap nfl jerseyscheap mlb jerseyscheap nfl jerseys